লস্কর-ই-তৈবা, জামায়াত-উদ-দাওয়া এবং ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন'এর মতো তিন-তিনটি কুখ্যাত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদ-এর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার অভিযোগপত্র দায়ের করেছে এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট বা ইডি। চার্জশিটে নাম রয়েছে হাফিজ সইদের সহকারী শাহিদ মেহমুদ, মহম্মদ সালমান, মহম্মদ কামরান-এর। এছাড়া অভিযোগপত্র দায়ের করা হয়েছে  দিল্লির হাওয়ালা অপারেটর মহম্মদ সেলিম ওরফে মামার বিরুদ্ধেও।

প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন, ২০০২ এর অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া সালমান, সেলিম এবং কামরানের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি ধারা এবং বেআইনী কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের অধীনেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ইডি-র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্তে সময় দেখা গিয়েছে, পাকিস্তান থেকে দুবাই হয়ে ভারতে অর্থ পাঠানো হতো। হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে হাফিজ সইদ দুবাই-য়ে কামরান ও তার সহযোগী আবদুল আজিজ বেহলিম এবং আরিফ গোলাম বশির ধরমপুরিয়ার কাছে অর্থ পাঠাতো। তারা সেই অর্থ দিল্লিতে সালমানের কাছে পাঠিয়ে দিত ।" এনআইএ-র তদন্তে সালমান, সেলিম ও ধরমপুরিয়ার বাড়ি থেকে গোপন নথি বাজেয়াপ্ত করেছে ইডি। দেখা গিয়েছে, দুবাই থেকে অর্থ পাঠানোর বিষয়টি ইমেলের মাধ্যমে নির্ধারিত হতো। সালমান বিদেশ থেকে প্রাপ্ত ওই অর্থ হরিয়ানার পলওয়ালের উতওয়ালে একটি মসজিদ তৈরিতে এবং উটাওয়ার গ্রামের আশেপাশে দরিদ্র মেয়েদের বিবাহের জন্য ব্যবহার করেছিল।

তদন্তে ইডি-র কর্মকর্তারা অন্তত ৪.৬৯ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পেয়েছেন। নয়া দিল্লিতে সালমানেরই ৭৩.১২ লক্ষ টাকা মূল্যের তিনটি স্থাবর সম্পত্তি বীাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এনআইএ জানিয়েছে, সালমান অবৈধ হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে ফালাহ-ই-ইনসানিয়াত ফাউন্ডেশন বা এফআইএফ জঙ্গিদের অর্থপাচারে জড়িত ছিল। হাফিজ সইদ-এর প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠী এফআইএফ-কে ২০১২ সালেই রাষ্ট্রসংঘ একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসাবে চিহ্নিত করেছিল।