আইপ্যাক কাণ্ডে এবার সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট।

আইপ্যাক কাণ্ডে এবার সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআরে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এছাড়াও, আইপ্যাকের অফিস ও ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এছাড়াও, এই দুই জায়গার আশপাশের এলাকার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজও সংরক্ষণ করতে হবে। এছাডা়ও, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা এবং ডিসি সাউথের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সব পক্ষকে হলফনামা জমা দিতে হবে। তৃণমূলের দাবি ছিল, এই মামলার শুনানি কলকাতা হাইকোর্টে হোক। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে এই আবেদনও খারিজ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ মামলার শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টেই।

বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করা আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশিতে কথিত বাধা দেওয়ার অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশের কয়েকজন কর্তার বিরুদ্ধে ইডির দায়ের করা আবেদনের ওপর পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে নোটিশ জারি করেছে। বেঞ্চ এই বিষয়টিকে একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি রাখে। আদালত ইডির আবেদনের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছেও জবাব চেয়েছে, যে আবেদনে ৮ জানুয়ারির ঘটনায় সিবিআই তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চলির বেঞ্চ জানায়, কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা কোনও দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কিন্তু কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা যদি কোনও কেসের তদন্ত করে, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কি বাধা দেওয়া যায়? তারপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের বিরুদ্ধে জারি হয় নোটিশ।

ইডি-কে অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন পর্যন্ত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সংস্থার আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের দায়ের করা সমস্ত এফআইআর-এর ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে ৮ জানুয়ারির ঘটনার সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ কোনও রকম পরিবর্তন ছাড়াই সংরক্ষণ করার নির্দেশও দিয়েছে। আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশির সময় হস্তক্ষেপ করার জন্য রাজ্যের শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে ইডি। সুপ্রিম কোর্ট ইডি-র অভিযোগের জবাবে পাল্টা হলফনামা দাখিল করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে।

ইডি-র অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত আবেদনের শুনানির সময় কলকাতা হাইকোর্টে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির সময় আদালতের ভেতরে নিয়ন্ত্রণহীন বিশৃঙ্খলার কথা উল্লেখ করে হাইকোর্ট মামলাটি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি করতে বাধ্য হয়েছিল। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিপুল পাঞ্চোলির ডিভিশন বেঞ্চ ইডি-র আবেদনের ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য সরকার, ডিজিপি রাজীব কুমার এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নোটিশ জারি করেছে। বেঞ্চ বলেছে, ‘আমাদের মতে, দেশে আইনের শাসন বজায় রাখা এবং প্রতিটি অঙ্গকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য বিষয়টি পরীক্ষা করা প্রয়োজন, যাতে অপরাধীরা কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আড়ালে সুরক্ষা না পায়। এখানে বৃহত্তর প্রশ্ন জড়িত এবং উত্থাপিত হয়েছে, যা অমীমাংসিত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে এবং বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন দল শাসন করার কারণে এক বা অন্য রাজ্যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হবে।’