রবিবার ভোর রাতে তহবিল তছরুপের অভিযোগে ইয়েস ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা রানা কাপুরকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট বা ইডি। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, রানা কাপুর তদন্তে সহযোগিতা করছিলেন না। সেই কারণেই তাঁকে তহবিল তছরুপ প্রতিরোধ আইন  বা পিএমএলএ বিধি অনুসারে ভোর তিনটে নাগাদ গ্রেফতার করা হয়। ইয়েস ব্যাঙ্কের সঙ্কট তৈরি হওয়ার পর শুক্রবার রাতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা রানা কাপুর-এর বাড়িতে অভিযান চালায়। এরপর রানা কাপুরকে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইডি প্রশ্নবানে বিদ্ধ করেছিল।

তার আগের দিনই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বা আরবিআই এক মাসের জন্য ইয়েস ব্যাঙ্ক থেকে গ্রাহকদের টাকা তোলার উর্ধসীমা ৫০,০০০ টাকায় বেঁধে দিয়েছিল। সেই সঙ্গে অবিলম্বে এই বেসরকারি ব্যাঙ্কের বোর্ড-কে সাময়িকভাবে বাতিল ঘোষণা করে। ফলে ইয়েস ব্যাংক এখন কোনও ঋণদান করতে, অগ্রিম মঞ্জুর বা নবায়ন করতে, কোনও বিনিয়োগ করতে, কোনও দায়বদ্ধতা নিতে বা কোনও অর্থ বিতরণ করতে পারবে না।

রানা কাপুর-কে হেফাজতে নিতে এদিন, স্থানীয় এক আদালতে তাঁকে এজলাসে হাজির করা হবে। ইয়েস ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা একটি কর্পোরেট সংস্থাকে ঋণ দিয়েছিল এবং তারপর সেই ঋণের টাকা ওই কর্পোরেট সংস্থা সরাসরি তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফিরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় ইয়েস ব্আঙ্কের প্রচিষ্ঠাতার কী ভূমিকা ছিল, তাই তদন্ত করে দেখছে ইডি। তবে শুধু এই একটিই নয়, আরও বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় আর্থিক তদন্তকারী সংস্থাটি।

ইয়েস ব্যাঙ্কের বোর্ডের পরিচালনে স্থগিতাদেশ আরোপ করার পরদিনই আরবিআই বেসরকারি খাতের ঋণদাতার জন্য একটি খসড়া পুনর্গঠন প্রকল্প জারি করেছিল। সেই সঙ্গে তারা বলেছিল, স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা এসবিআই ইয়েস ব্যাঙ্কে বিনিয়োগ করতে 'ইচ্ছুক'। শুক্রবার, এসবিআই-এর তরফে জানানো হয়, তারা সরকার অনুমোদিত পরিকল্পনার আওতায় ইয়েস ব্যাংকের ৪৯ শতাংশ শেয়ার নিতে চায়।

দীর্ঘদিন ধরেই ইয়েস ব্যাঙ্ক মূলধন বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে তাদের লক্ষ্য ছিল ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করা। কিন্তু একজনও বিনিয়োগকারী ধরতে না পারায় পরে তা কমিয়ে করা হয়েছিল ১.২ বিলিয়ন ডলার। ডিসেম্বর শেষ হওয়া তৃতীয় ত্রৈমাসিকে তারা আর্থিক ফলাফল ঘোষণাও করতে পারেনি। স্টক এক্সচেঞ্জগুলিকে ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছিল, চলতি বছরের ১৪ মার্চ বা তার আগেই এই ফলাফল প্রকাশ করা হবে।