বুধববার রাতেই ভারতীয় সেনাবাহিনীতে প্রথম কোভিড-১৯ আক্রান্ত সৈনিকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। তার কয়েক ঘন্টা পরই আধাসামরিক বাহিনীর কাছে এল কেন্দ্রের নির্দেশ 'ব্যাটল মোড' অর্থাৎ 'যুদ্ধাবস্থা'য় প্রবেশ করো। বিশ্বজুড়ে ২ লক্ষেরও বেশি মানুষ এই ভয়ানক সংক্রামক ব্যধীতে আক্রান্ত। মৃত্যুমিছিল ৮০০০ ছাড়িয়েছে। ভারতে কোভিড -১৯'এ আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যতাক্রমে ১৫২ ও  ৩। এই পরিস্থিতিতে ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সেনাদের ভূমিকা ও দায়বদ্ধতার নিয়েও একটি উপদেষ্টা জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কমপক্ষে এক মাসের জন্য খুব প্রয়োজন না হলে, বিদেশে বা দেশের ভিতরেই প্লেনে, ট্রেনে বা বাসে ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। কোনও জরুরি অবস্থা ছাড়া বাদবাকি ছুটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হবে। এরসঙ্গে সঙ্গে আধাসামরিক বাহিনীকে করমর্দনের মতো শারীরিক সংযোগ এড়িয়ে যেতে বলা হয়েছে। কাশির সময় মুখ ঢাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাবলিক প্লেসে গেলে ঘন ঘন হাত ধোওয়া, এবং জুতো ঘরের বাইরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কীভাবে হাত ধুতে হবে তাও বিশদে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

এছাড়া আধাসামরিক বাহিনীর সমস্ত সদস্য বিশেষত চিকিৎসক এবং চিকিৎসা কর্মীদের জন্য প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম এবং জীবাণুনাশক উপাদানের জন্য বাজেটের পরিকল্পনা এবং ব্যবস্থাও করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বাহিনীর কমান্ডারদের। এর মধ্যে ওয়াশিং পাউডার, ব্লিচিং পাউডার, পর্যাপ্ত বালতি এবং ঝাঁটা এবং পায়ে চালিত ডাস্টবিন কেনার নির্দেশ রয়েছে।

শুধু নিজেদের সুরক্ষিত রাখাই নয়, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতেও আধাসামরিক বাহিনীকে দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে শিক্ষা শিবির আয়োজন করতে হবে। সেইসঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লুএইচও) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পোস্টারগুলি সংগ্রহ করে তা জায়গায় জায়গায় লাগাতে হবে।

বুধবার রাতে 'স্নো ওয়ারিয়র্স' নামেই বেশি পরিচিত পদাতিক সেনা রেজিমেন্ট, 'লাদাখ স্কাউটস'-এর এক ৩৫ বছর বয়সী জওয়ানের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল ইতিবাচক আসে। তাঁর বাবা দিন কয়েক আগে ইরান থেকে ফিরেছিলেন। এটাই ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীতে করোনভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার প্রথম ঘটনা। তার দেহে সংক্রমণ ধরা পড়ার পরই লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের লেহ-তে লাদাখ স্কাউটস রেজিমেন্টাল সেন্টারে ৮০০ জন সেনা সদস্যকে লকডাউন-এর অধীনে রাখা হয়েছে।

জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তর-পূর্বের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলি এবং নকশাল-অধ্যূষিত রাজ্যগুলি-সহ সারা দেশে আধাসামরিক বাহিনীর কমপক্ষে ১০ লক্ষ পুরুষ ও মহিলা জওয়ান নিযুক্ত আছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন এই সদস্যদের বেশিরভাগই ব্যারাকে থাকেন। সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতিনিয়ত এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যেতে হয়। তাই বাহিনীর সদস্যদের সুস্থ রাখাটা খুব বড় চ্যালেঞ্জ। আপাতত কর্মীদের অন্যত্র না গিয়ে নির্ধারিত স্থানেই থাকতে বলা হয়েছে।