শুক্রবারই গালওয়ান উপত্যকায গত ১৫ জুনের হামলার ভিডিও বলে দাবি করে একটি প্রোপাগান্ডামূলক ভিডিও প্রকাশ করেছিল চিন। তার পরদিনই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হল প্যাংগং হ্রদের (Pangong Tso) তীর থেকে চিনা বাঙ্কার ভেঙে সরিয়ে দেওয়ার ভিডিও। অন্তত, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে তাই দাবি করা হয়েছে। সত্যিই কি তাই? নয় মাস ধরে ভারত ও চিন সেনাবাহিনীর অচলাবস্থা চলার পর, গত ১১ ফেব্রুয়ারি প্যাংগং হ্রদ এলাকা থেকে উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh)। তাহলে কি সত্যিই ভারতীয় এলাকায় বাঙ্কার তৈরি করেছিল চিন সেনা?

এক মিনিট দীর্ঘ ওই ভাইরাল ভিডিও-তে দুটি জেসিবি (JCB) যন্ত্রের সাহায্যে কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ তুলতে দেখা গিয়েছে। উপস্থিত আছেন, সেনার উর্দি পরা কয়েকজন পুরুষ। কমলা জ্যাকেট এবং হেলমেট পরা আরও কয়েকজনকে গোটা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গিয়েছে। ভিডিওটি পোস্ট করে সঙ্গের ক্যাপশনে হিন্দি ভাষায় লেখা হয়েছে, 'আমরা যা চাই তা করতে পারি।' দাবি করা হয়েছে, ১৫০টি চিনা ট্যাঙ্ক এবং ৫০০০ পিএলএ (PLA) সদস্য প্যাংগং হ্রদ এলাকা থেকে সরে যাওয়ার পর ভারতীয় সেনা সদস্যরা জেসিবি-র সহায়তায় চিনা বাঙ্কারগুলি ভেঙে দিয়েছে।  

অথচ, রাজনাথ সিং-এর সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পরই, ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বেশ কিছু চিত্র এবং ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল। সেগুলিতে দেখা গিয়েছিল, চিনা বাহিনী প্যাংগং হ্রদের উত্তর ও দক্ষিণ তীর থেকে তাদের সব অস্থায়ী বাঙ্কার, তাঁবু এবং অন্যান্য পরিষেবা নিয়ে সেই এলাকা থেকে সরে যাচ্ছে। তাই, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে এই ভিডিওটি নিয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়। সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্যাংগং হ্রদ এলাকা থেকে ভারত ও চিনের সেনারা নিজে থেকেই সরে গিয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ওই অঞ্চলে কোনও চিনা বাঙ্কার অপসারণ করা হয়নি। তাহলে ভিডিওটি কীসের ভিডিও? তা জানতে ভিডিও থেকে প্রাসঙ্গিক কিছু কীফ্রেম বেছে নিয়ে গুগল ইমেজ সার্চ ইঞ্জিনের সহায়তায় বিপরীত অনুসন্ধান চালায় এশিয়ানেট। এইভাবে ভিডিওটির একটি দীর্ঘতর সংস্করণের খোঁজ পাওয়া যায়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারী ইউটিউবে ভিডিওটি পোস্ট করেছিল সংবাদ সংস্থা এএনআই। তবে ভিডিওটি উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার হরপা বান বিপর্যয়ের পর উদ্ধারকার্যের ভিডিও ফুটেজ।

এএনআই-এর দাবি অনুসারে, ভিডিওটিতে উর্দি পরিহিত যে ব্যক্তিবর্গকে দেখা যাচ্ছে, তাঁরা ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ বাহিনী বা আইটিবিপি (ITBP)-র সদস্য। আর কমলা জ্যাকেট পরিহিতরা, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ (NDRF)-এর কর্মী। গত ৭ ফেব্রুয়ারি, একটি হিমবাহ ফেটে উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে হড়পা বান দেখা দিয়েছিল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা চামোলি থেকে ৬১ জনের মৃতদেহ এবং ২৮ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে। ভিডিওটি সেই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর চামোলি জেলার রেনি গ্রামে দুই বাহিনীর সদস্যদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের। একই ভিডিও আইটিবিপি-র পক্ষ থেকে তাদের সরকারি টুইটার হ্যান্ডেলেও শেয়ার করা হয়েছে।

অর্থাৎ প্রশ্নের মুখে থাকা ভিডিওটি কোনোভাবেই প্যাংগং হ্রদ এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর চিনা বাঙ্কার সরানোর ভিডিও ফুটেজ নয়। এটি উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় ভারতীয় বিশেষ বাহিনীর উদ্ধার অভিযানের ভিডিও। কাজেই যে দাবি-সহ ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, তা সর্বৈব ভুয়ো।