প্রতিদিনই একটু একটু করে দাম বেড়ে যাচ্ছে জ্বালানি তেলের। সারা দেশেই পেট্রোলের দাম ৯০ টাকা ছাপিয়ে গিয়েছে, ডিজেলও প্রায় ৯০ পার হবে হবে করছে। রান্নার গ্যাসের দামও ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী। মধ্যবিত্তের এই চরম সঙ্কটের সময়ে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম লাগানোর দিশা দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। শনিবার, পেট্রোলিয়াম পণ্যকে জিএসটি-র আওতায় আনার কথা বিবেচনার সুপারিশ করলেন তিনি।

এদিন, কেন্দ্রীয় বাজেটের বিষয়ে চেন্নাই নাগরিক ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। সেখানেই জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে আসে। তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় সরকারই পেট্রোল থেকে রাজস্ব আয় করে। তবে, পেট্রোলিয়ামকে জিএসটি-র আওতায় আনার কথা ভাবা যেতে পারে। এটাই জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সংক্রান্ত সমস্যার সম্ভব্য সমাধান বলেও দাবি করেন নির্মলা সীতারমণ। একইসঙ্গে তিনি গুডস এন্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST) কাউন্সিলের উচিত স্ল্যাবের যুক্তিযুক্ত সংশোধন করার কথা বিবেচনা করার সুপারিশও করেন। বস্তুত, এর আগেও বেশ কয়েকবার মোদী সরকার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে একে জিএসটি-র আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছিল। রাজ্য সরকারগুলি রাজি হয়নি।  

গত ১২ দিনের ধরে নাগাড়ে দাম বেড়ে চলেছে জ্বানলানি তেলের। দিল্লিতে এই কয়েক দিনে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটারে মোট ৩.৬৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ছে, আর ডিজেলের দাম বেড়েছে ৪.১৮ টাকা। এদিন নয়ডায়, পেট্রোলের দাম ছিল প্রতি লিটার ৮৮.৯২ টাকা আর ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ৮১.৪১ টাকা। মুম্বইয়ে, পেট্রোলের দাম গত একদিনে ৩৮ পয়সা বেড়ে লিটার প্রতি ৯৭ টাকা ছাপিয়ে গিয়েছে এবং ডিজেল ৩৯ পয়সা বেড়ে ৮৭.০৬ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কলকাতায়, পেট্রোলের দাম বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ৯১.৭৮ টাকা আর ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ৮৪.৫৬ টাকা। চেন্নাইয়ে এদিন পেট্রোল বিক্রি হয়েছে প্রতি লিটার ৯২.৫৯ টাকায় আর ডিজেল প্রতি লিটার ৮৫.৯৮ টাকায়। বেঙ্গালুরুতে, পেট্রোলের দাম ছিল লিটার প্রতি ৯৩.৬৭ টাকা, ডিজেলের দাম ৮৫.৮৪ টাকা।

নির্মলা সীতারমণের জ্বালানি তেল-কে জিএসটি-র আওতায় আনার প্রস্তাবের পাশাপাশি এদিন জ্বালানী তেলের মূল্যবৃদ্ধির সমস্যার আরও এক বিকল্প সমাধানের পথ বাতলেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও জলপথ মন্ত্রী নিতিন গড়করি। শুক্রবারই তিনি তাঁর দপ্তরের পক্ষ থেকে 'গো ইলেক্ট্রিক' নামে একটি প্রচার শুরু করেছেন। পেট্রোল এবং ডিজেলের মতো জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমাতে বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহারে উত্সাহ দেওয়াই এর উদ্দেশ্য। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর দপ্তরের কর্মকর্তাদের জন্য বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক করা হবে। দিল্লিতে ১০,০০০ বৈদ্যুতিক যান ব্যবহার করলে প্রতি মাসে জ্বালানী খরচ হিসাবে প্রায় ৩০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা যাবে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সেইসঙ্গে দূষণ হ্রাসও করবে।