উৎসবের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিয়েছে গয়না বিক্রেতা সংস্থা তানিস্ক। কিন্তু তারপরেও নিস্তার নেই। বুধবার সকালেও  বিজ্ঞাপন ইস্যুতে আবারও বাড়তে থাকে উত্তেজনা। জাতীয় স্তরের একটি প্রথম সারির নিউজ চ্যালেনে সম্প্রচারিত হয় গুজরাটের গান্ধীধামে তানিস্কের একটি শোরুমে হামলা চালান হয়েছে। একই সঙ্গে জানান হয়েছে বিজ্ঞাপন ইস্যুতে সেই শোরুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজারের কাছ থেকে একটি ক্ষমাপত্রও লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর এই ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই নেটিজেনদের একটি পক্ষ দাবি করে সংবাদ মাধ্যমটি হিন্দুত্বকে মেলাইন করতে চাইছে। তাই ভুল খবর সম্প্রচার করছে। এক ব্যক্তি দাবি করেছে তিনি সংশ্লিষ্ট দোকানের ম্যানেজারের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু সেই ম্যানেজার জানিয়েছে শোরুমে হামলার কোনও ঘটনাই ঘটেনি। যদিও খবরের সত্যতা যাচাই করেনি এশিয়ানেট নিউজ বাংলা।

 

কিন্তু আসল ঘটনা কী? আদৌ কী হামলা চালান হয়েছিল তানিস্কের শোরুমে? আসল খবর হল কচ্ছ জেলার গান্ধীধামে তানিস্কের শোরুমের সামনে জড়ো হয়েছিল ১২০ জন। তাদের মধ্যে ৬-৭ জন শোরুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। সেই দলটি শোরুমের কর্মীদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় হিন্দুরা এমন কোনও বিজ্ঞাপন সহ্য করবে না। হিন্দুত্বের অপমান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। পাল্টা শোরুমের কর্মীরা জানিয়েছিলেন তাঁরাও হিন্দু। কিন্তু বহিরাগতরা কোনও কথাই শুনতে চায়নি। দোনাকের সামনে একটি গুজরাটি ভাষায় পোস্টার লাগিয়ে দিয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় তারা। আর সেই পোস্টারে বিজ্ঞাপনেক তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। 

নাম প্রকাশে অনুচ্ছিক শোরুমের এক কর্মী জানিয়েছেন বিজ্ঞাপন নিয়ে তাঁরা একাধিক হুমকি ফোন পাচ্ছেন। অনেকেই ফোন করে তাঁদের সংস্থার সম্প্রচারিত বিজ্ঞাপনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। অনেকে আবার বিজ্ঞাপনটি ভালো বলেও জানিয়েছেন। তবে বিজ্ঞাপন ইস্যুতে উৎসবের মরশুমে ব্যবসার যে ক্ষতি হচ্ছে তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন শোরুমের কর্মী। গান্ধীধামে তানিস্কের শোরুমের ম্যানেজার জানিয়েছেন, শোরুমে কোনও হামলার ঘটনা ঘটেনি। তবে তিনি বেশ কয়েকটি হুমকি ফোন পেয়েছেন। পুরো বিষয়টি পুলিশকে জানান হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন তাদের সঙ্গে রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে শোরুমের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল ১২ অক্টোবর দুই ব্যক্তি শোরুমে আসে। সদ্যো সম্প্রচারিত হওয়া বিজ্ঞাপনের জন্য তারা ক্ষমা প্রার্থনা করার দাবি জানায়। তবে শোরুমে হামলার খবর পুরোপুরি ভুয়ো বলেও জানান হয়েছে। 

বিজ্ঞাপণটিতে দেখা গেছে একটি অন্তঃসত্ত্বা মহিলা শাড়ি পরে রয়েছেন। আর তাঁর পাশে রয়েছেন সালোয়ার কামিজ পরা এক মহিলা। যাকে শাড়ি পড়া মহিলা মা বলে সম্বোধন করছেন। মহিলার স্বাদভক্ষণ অনুষ্ঠানকেই তুলে ধরা হয়েছে। বিজ্ঞাপণের শেষে শাড়ি পড়া মহিলা তাঁর শাশুড়িকে জিজ্ঞাসা করেছেন আপনাদের বাড়িতে কী এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়? আর উত্তরে শাশুড়ি পুত্র বধূকে জানিয়েছেন কন্যাকে সুখী করার রীতি প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে। ধর্মীয় সম্প্রীতির এই বিজ্ঞাপনেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নেটিজেননা। লাভ জিহাদিদের কোপে পড়ে একাধিক মাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বিজ্ঞাপণটি। আর এই ঘটনারও তীব্র সমালোচনা করেছেন নেটিজেনদের একাংশ।