লকডাউনে সবকিছু বন্ধ। পুলিশও কোভিড রোগীদের খুঁজে বের করতে এবং লকডাউন সফল করতেই বেশি ব্যস্ত। তারই সুযোগে গুজরাতের সুরাতে এক নির্মিয়মান স্বামীনারায়ণ মন্দিরে চলছিল জাল নোট ছাপার কাজ। একটি সর্বাভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবরের ক্লিপিংস সহ এমনই একটি খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। কিন্তু খবরটি আদৌ সত্যি এই নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

ওই ভিডিও-তে প্রচারিত খবর অনুযায়ী ঘটনাটি ঘটেছে সুরাতের খেদা এলাকার অম্বভ গ্রামের এক নির্মিয়মান স্বামীনারায়ণ মন্দিরে। মন্দির থেকে প্রায় এক কোটি টাকার জাল নোট বাজেয়াপ্ত করেছে গুজরাট পুলিশের অপরাধদমন শাখা। সেই সঙ্গে এক পুরোহিতসহ পাঁচ জনকে এই কাজে জড়িত থাকার অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। খবরের ক্লিপটি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, 'একদিকে যখন পুরো দেশ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, অন্যদিকে, গুজরাতের এক মন্দির  লকডাউনের পুরো সুবিধা নিয়ে নকল নোট তৈরি করছে'।

প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ওই খবর আপাত দৃষ্টিতে অবিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই। কিন্তু, ভিডিওটির মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা খটকা তৈরি করে। প্রথমত, ভিডিওটি পরিবেশন করছেন যে সংবাদকর্মী তিনি সহ, ভিডিওটিতে যেসব পুলিশকর্মী ও অন্যান্যদের দেখা যাচ্ছে, তাদের কারোর মুখেই মাস্ক বা হাতে গ্লাভস নেই। যা করোনা-দুনিয়ায় অসম্ভব বিষয়। দ্বিতীয়ত, সংবাদকর্মী কিন্তু একবারও করোনাভাইরাস বা লকডাউনের কথা মুখে আনেননি।

এশিয়ানেট নিউজ বাংলার পক্ষ থেকে সন্ধান করতে গিয়ে দেখা গিয়েছে, যে ভিডিওটি লকডাউনের সময়ের বলে দাবি করা হচ্ছে, সেই ভিডিওটি সত্যি হলেও সেটি ইন্টারনেটে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল মাস পাঁচেক আগে, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে। বস্তুত, ওই সময়ে শুধু এই একটি সংবাদমাধ্যমেই নয়, বেশ কয়েকটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে ওই খবর প্রকাশিত হয়েছিল। যা থেকে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে, ঘটনাটি সত্যি হলেও, তা লকডাউন-এর সময় নয়, বস্তুত এমন এক সময়ের ঘটনা, যখন কোভিড-১৯ রোগের নামকরণই হয়নি।  

কাজেই এই বিপর্যয়ের সময়ে শুধুমাত্র ঘৃণা ছড়াতেই এই ভিডিওটি ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ধরণের গুজবে বিশ্বাস করবেন না। গুজবের পিছনে লুকিয়ে থাকা সত্যিটা জানতে চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলায়।