গত শনিবার তিসহাজারি কোর্টে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন দিল্লির পুলিশ ও আইনজীবীরা। তারপর সোমবার সাকেত কোর্টে ফের একবার মারামারি হয় দুই পক্ষের মধ্যে। বুধবারও এই ঝামেলার অবসান ঘটেনি। কিন্তু এই এত কাণ্ড ঘটেছে শুধুমাত্র একটি ভূয়ো খবর বা রটনা থেকে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের চারদিনের তদন্ত শেষে এমন গুরুতর তথ্যই উঠে এসেছে।

দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি সূত্র জানিয়েছে, ৫ নভেম্বর দিন্নি বার অ্য়াসোসিয়েশনের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সেই নির্বাচনে যাঁরা প্রার্থী হচ্ছেন, তাঁরা ঘটনার দিন আদালত চত্ত্বরে উপস্থিত ছিলে প্রচারের জন্য। তিস হাজারি কোর্টের সঙ্গে য়ুক্ত নন, এমন বহুসংখ্যক বহরাগত আইনজীবীও উপস্থিত ছিলেন তাঁদের সঙ্গে। এর মধ্য়েই লকআপের মধ্যে এক আইনজীবীকে পুলিশ পিটিয়েছে, এমন একটি খবর রটে যায়। এরপরই দিকবিদিক শূন্য হয়ে আইনজীবীরা ঝাঁপিয়ে পড়েন পুলিশকর্মীদের উপর।

অথচ লকআপের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, ওই আইনজীবী স্বাভাবিকভাবেই আরও পুলিশকর্মীদের সঙ্গে লক-আপে প্রবেশ করছেন। কাজেই লক-আপের মধ্যে আইনজীবীকে পুলিশের মারধরের অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত থাকা অন্যান্য আইনজীবীদের বয়ান নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মারামারিতে য়ুক্ত তিন আইনজীবীকে সনাক্ত করেছে। তাঁদের মধ্যে এক মহিলাও আছেন। একইসঙ্গে আরও কারা কারা এই ঘটনায় যুক্ত তাদের চিহ্নিত করার জন্য ২০ বছর ধরে বিচারাধীন বন্দিদের তিহার জেল থেকে আদালতে নিয়ে আসা এক পুলিশ কনস্টেবলের বয়ানও নথিভূক্ত করা হচ্ছে।  

আহত পুলিশকর্মীরা তদন্তকারী অফিসারদের ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিয়েছেন। যে কনস্টেবল গুলি চালিয়েছিলেন, তিনি দাবি করেছেন নিজেকে এবং সিনিয়র সহকর্মীদের প্রাণের হুমকি তৈরি হয়েছিল। একইসঙ্গে আইনজীবীরা লকআপে ঢুকে পড়লে বিচারাধীন বন্দিদের নিয়ে সমস্যায় পড়তে হত। এই দুই বিষয় প্রতিরোধ করতেই তিনি গুলি ছুড়েছিলেন।