রবিবার সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া তিনটি কৃষি বিল-কে সমমতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ। এর আগে বিরোধীরা দলগুলি তাঁর সঙ্গে দেখা করে, এই বিষয়ে সম্মতি না দেওয়ার অনুরোধ করেছিল। কিন্তু, সংসদের সম্মতিতেই মাথা হেলিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তবে বিলগুলি আইন হওয়ার পরও কৃষক ও বিরোধীদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ থামার লক্ষণ তো নেইই, উল্টে আরও বড় আন্দোলনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

একদিন আগেই এনডিএ-র সঙ্গে দুই দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্ক ছিন্ন করেছে শিরোমণি অকালি দল। রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর, তারা এই দিনটিকে 'গণতন্ত্র ও কৃষকদের জন্য অন্ধকার দিন' বলেছে। এই বিলের বিরোধিতা করা সকল দলকে একত্রিত হওয়ার ডাক দিয়েছেন অকালি দলের সভাপতি সুখবীর সিং বাদল। ১ অক্টোবর থেকেই কিষাণ মার্চ শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে এনডিএ-র আরেক পুরোনো জোটসঙ্গী শিবসেনা এবং শরদ পওয়ারের এনসিপি, তাদের এনডিএ ত্যাগের সিদ্ধান্ত-কে স্বাগত জানিয়েছে।

কৃষি বিল তিনটি এদিন আইনে পরিণত হলেও মহারাষ্ট্রে সেই আইন প্রযোগ করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের রাজস্ব মন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা বালাসাহেব থোরাট। তিনি জানিয়েছেন, সোমবার এই বিষয়ে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারির সঙ্গে দেখা করবেন। এই বিষয়ে আগারি সরকারের অবস্থান ঠিক করতে জোটের তিন দল একসঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলেও জানিয়েছেন থোরাট। তবে এই বিষয়ে এনসিপি তো বটেই শিবসেনাও তাদের সঙ্গে একমত বলেই দাবি তাঁর।

অন্যদিকে, কর্নাটকে বেশ কয়েকটি কৃষক সংগঠন কৃষি বিলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার রাজ্যজুড়ে বনধের ডাক দিয়েছেন।  তারা অবশ্য শুধু কেন্দ্রের তিনটি বিলই নয়, শনিবারই কর্নাটক বিধানসবায় পাস হওয়া রাজ্যে সরকারের দুটি কৃষি বিলেরও প্রতিবাদ জানাবে। কংগ্রেস দলের পক্ষ থেকে খোলাখুলি সমর্থন জানানো হয়েছে কৃষকদের ডাকা এই বনধ-কে। এই নিয়ে সোমবার দক্ষিণের রাজ্যউত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে।