তিন সপ্তাহ ধরে রাজধানীতে কৃষকরা বিক্ষোভ দেখালেও এক পা-ও পিছোলেন না প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুক্রবার, ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে মধ্যপ্রদেশের কৃষকদের সামনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানে তিনি দৃঢ়ভাবে নয়া কৃষি আইন-এপ প্রতি সমর্থন জানালেন। অবশ্য এই আইন আনার 'কৃতিত্ব' বা দায় তিনি চাপিয়েছেন তাঁর আগের কংগ্রেস সরকার-এর উপরই। সেইসঙ্গে তিনি বলেছেন, নতুন কৃষি আইনের ফলে এমএসপি বা ন্যূনতম সমর্থন মূল্য ব্যবস্থার অবসান ঘটবে, 'এটাই সর্বকালের বৃহত্তম মিথ্যাচার'।

এদিন মধ্যপ্রদেশের কৃষকদের সামনে বলতে উঠে নরেন্দ্র মোদী বলেন, নতুন তিন কৃষি আইন রাতারাতি আনা হয়নি। বিগত ২২ বছরে যারা সরকারে ছিল, তারাই এই আইন আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছিল। কৃষক গোষ্ঠী, কৃষি বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, বিজ্ঞানী এবং প্রগতিশীল কৃষকরা এই সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছিবলেন বলেই এই আইনের প্রবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এমনকী এখন যেসব বিরোধী দল এই আইনগুলির বিরোধিতা করছে, তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারেই এই আইনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ছিল বলেও অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

মোদীর মতে, বিরোধীরা যখন সরকারে ছিল, তখন এই সংস্কারের কথা আলোচনা করলেও কাজে করে দেখাতে পারেনি। আজ যখন তিনি সেই সংস্কার করেছেন, তখন সেই দলগুলি এই সংস্কারের কৃতিত্ব পাচ্ছে না বলে দুঃখ পাচ্ছে। নরেন্দ্র মোদী বলেন, 'সব কৃতিত্ব  আপনারা রাখুন। এমনকী আমি আপনাদের ইস্তেহারকেও কৃতিত্ব দেব। আমি কৃতিত্ব চাই না। আমি চাই কৃষকদের জীবনে উন্নতি হোক। কৃষকদের বিভ্রান্ত করা বন্ধ করুন।'

কৃষি আইনের এই সংস্কারগুলি বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে খুবই প্রয়োজনীয় বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ভারতীয় কৃষকরা সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার দিক থেকে বিশ্বের অন্যান্য দেশের থেকে পিছিয়ে থাকবে, এটা তিনি হতে দেবেন না। কৃষি আইন নিয়ে যারা 'অন্নদাতা'দের বিভ্রান্ত করছে ও বিক্ষোভে প্ররোচিত করছে, তাদের কৃষকদের সম্পর্কে একেবারেই ভাবনা বা উদ্বেগ নেই বলে, কৃষকদের সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। উদাহরণ হিসাবে তিনি তুলে আনেন ২০১৮ সালের মধ্যপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের সময় কংগ্রেসে কৃষি ঋণ মাফ করার প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ। সেইরকম মিথ্যা কথা বলে, প্রতিশ্রুতি দিয়ে বা মিথ্যা ভয় দেখিয়ে আরও একবার কৃষকদের ব্যবহার করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা বলে অভিযোগ করেন মোদী।