সরকারের সঙ্গে কৃষক সংগঠনের বৈঠকে সোমবারও কোনও সমাধান সূত্র পাওয়া গেল না। সেই অর্থে সপ্তম দফার বৈঠকের পরেও জট কাটল না। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার অর্থাৎ ৮ জানুয়ারি। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এদিন স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে তিনটি কৃষি আইন বাতিল করা হবে না। আইনে যদি কোনও সংশোধনী আনা যান তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী জানিয়েছেন এদিন আলোচনায় সমাধান পাওয়া যেতে পারে বলে প্রথম থেকে আশা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু তিনটি আইন প্রত্যাহারের বিষয় আন্দোলনকারী কৃষক সংগঠনগুলি অনড় থাকায় জট কাটেনি। আগামী বৈঠকে সামধান সূত্র পাওয়া যাবে বলে তিনি নিশ্চিত।

 অন্যদিকে আন্দোলনকারী কৃষক নেতা যুধবীর সিং জানিয়েছেন সরকার পক্ষ চেয়েছিল তিনটি আইনের ধারা নিয়ে আলোচনা করতে। আন্দোলনকারীরা তা প্রত্যাখান করেছে। সরকার আইন সংশোধনের পথে হাঁটতে চাইছে। আর অন্নদাতারা আইন প্রত্যাহার করতে চাইছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সর্বভারতীয় কৃষক সভার নেতা হান্নান মোল্লা জানিয়েছেন, কৃষক আন্দোলন নিয়ে চাপ বাড়ছে সরকার পক্ষের। আইন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহার হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

গত ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লির উপকণ্ঠে তিনটি আইন প্রত্যাহের দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন দেশের অন্নদাতারা। ইতিমধ্যেই প্রবল ঠান্ডা ও পথদুর্ঘটনায় বেশ কয়েক জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এদিন বিজ্ঞান ভবনে বৈঠকের শুরুকেই আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ২ মিনিট নিরবতা পালন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সরকারী আধিকারির ও বৈঠকে অংশগ্রহনকারী কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর, বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ছাড়াও ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সোমপ্রকাশ। সংশ্লিষ্ট দফতের আধিকারিকও ছিলেন। ৪১টি কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধিদের এদিন বৈঠকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এদিনের বৈঠকেও কোনও সমাধান সূত্র পাওয়া যায়নি। নিজেদের দাবিতে এখনও পর্যন্ত অনড় রয়েছে দুই পক্ষ।