এবার যাতে আর এক যাত্রায় পৃথক ফল না হয় তার জন্য সম্পর্ণ অন্য ভূমিকা গ্রহণ করলেন কেন্দ্রীয় কৃষি নরেন্দ্র সিং তোরম ও বাণিজ্য মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। দিল্লির উপকণ্ঠে চলা কৃষক আন্দোলন নিয়ে এদিন ষষ্ঠ দফা বৈঠকে বসেছে কেন্দ্রীয় সরকার ও আন্দোলনকারী কৃষকদের ৪০টি সংগঠন। বৈঠকের মঝেই মধ্যাহ্নভোজে এবার আর নিজেরা আলাদা খাবার খাননি কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রী। তাঁরা দুজনেই আন্দোলনকারী কৃষকদের জন্য লঙ্গর থেকে আসা খাবার দিয়েই মধ্যাহ্নভোজ সারেন। 

 আন্দোলনকারী কৃষক নেতাদের সঙ্গেই খাবার খান কেন্দ্রীয় দুই মন্ত্রী। কেন্দ্রীয় সরকারের  তরফ থেকে কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে। কষক আন্দোলন ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপির কৃষক দরদী ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও খুন্ন হয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে। দিল্লি সংলগ্ন এলাকায় টানা ৩৫ দিন ধরে চলছে এই আন্দোলন। আন্দোলনকারী কৃষকদের সঙ্গে খাবার খেয়ে নিজেদের পুরনো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনারও চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। 

কারণ আগে পরপর দুটি বৈঠকে কৃষকরা কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া খাবার প্রত্যাহার করেছিলেন। তাঁরা জানিয়েছিলেন তাঁরা নিজেদের খাবার নিজেরাই নিয়ে এসেছেন। সিংহু, গাজীপুর সীমান্তে অবস্থানকারী কৃষকরা যেমন লঙ্গরের খাবার খাচ্ছেন তাঁরাও সেই খাবারই খাবেন। কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া দামিখাবার খেতে পারবেন না বলেও জানিয়েছিলেন। আন্দোলনকারী দুই কৃষকের বিজ্ঞানভবনের মাটিতে বসে ডাল রুটি খাবার ছবি ভাইরালও হয়েছি। যা নেটিজেনদের সহানুভূতিএ আদায় করেছিল। 

গত পাঁচ ডিসেম্বর থেকে কৃষিকদের সমস্যা সমাধানের জন্য এই নিয়ে ৬বার আলোচনা হল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধান সূত্র পাওয়া যায়নি। নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহের দাবিতে অনড় রয়েছেন। একই সঙ্গে নূন্যতম সহায়ক মূল্য ইস্যুতেই কেন্দ্রয়কে একটি স্পষ্ট নীতি গ্রহণ করতে হবে বলেও দাবি জানিয়েছিলেন। কেন্দ্র এখনও পর্যন্ত কৃষকদের দাবি মেনে নেয়নি। পাল্টা নতুন কৃষি আইনের সমর্থনে একগুচ্ছ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কিন্তু এদিন বৈঠকের আগেই এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিলেন ষষ্ঠ বৈঠকেই জট কেটে যাবে।