অনির্দিষ্টকালের জন্য রিলে অনশন শুরু করেছেন প্রতিবাদী কৃষকরা। প্রতিবাদীদের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে প্রতিদিন ১১ জন কৃষক অনশন করবেন। যতদিন পর্যন্ত তাঁদের দাবি কেন্দ্রীয় সরকার মেনে নেবে না ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও জানিয়েছেন আন্দোলনকারী কৃষকরা। গত ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লির সীমানা অবরুদ্ধ করে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন কৃষকরা। নতুন তিনটি কৃষি আইন বাতিল করার দাবিতে তাঁদের আন্দোলন ২৬ দিনে পড়ল। 

অন্যদিকে আরও একপ্রস্ত আলোচনা করতে চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে চিঠি দেওয়া হয়ে প্রতিবাদী কৃষকদের। রবিবার কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব বিবেক আগরওয়াল আন্দোলনকারী কৃষকদের একটি চিঠি দিয়েছেন। তাতে তিনি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের আলোচনার জন্য মুক্ত হৃদয়ে প্রস্তুত রয়েছে। সমাধান সূত্রে বার করার চেষ্টা করবে বলেও জানিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে আরও একদফা আলোচনা জন্য কৃষকদের আরও একটি দিন বেছেনেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। যদিও কৃষকদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত তার কোনও উত্তর দেওয়া হয়েনি।  

রবিবার থেকে দিল্লির উপকণ্ঠে সিংহু বর্ডার এলাকায় আরও অনেক কৃষক আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। যোগেন্দ্র যাদব কৃষক আন্দোলন আরও তীব্রতর করার ডাক দিয়েছেন। গতকালই তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন আন্দোলন আরও জোরদার হবে। প্রতিদিন ১১ জন কৃষক উপবাস করবেন বলেও তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে গতকাল আন্দোলনকরী কৃষকরা শহিদ দিবস পালন করেছিলেন। আন্দোলনে নিহত কৃষকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন তাঁরা। কৃষক সংগঠনের দাবি এখনও পর্যন্ত ৩৩ জন আন্দোলনকারী কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। প্রবল ঠান্ডা ও দুর্ঘটনার কারণেই মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান হয়েছে। কারণ বর্তমানে দিল্লির তাপমাত্রা ক্রমশই নিম্মগামী। ২৬ নভেম্বর থেকে এপর্যন্ত টানা ২৬ দিন জাতীয় রাজধানীর উপকণ্ঠে খোলার আকাশের নিচে অবস্থান করে রয়েছেন কৃষকরা। বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আন্দোলনকারী কৃষকদের জন্য তাঁবুর ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। অনেক কৃষকই ট্রাকের ভিরতে, তলার আর ট্রাক্টরের তলায় শুয়েই রাত কাটাচ্ছেন। 

ব্রিটেনে করোনাভাইরাসের নতুন স্ট্রেন, মহামারির আকাশে সিঁদুরে মেঘ দেখে জরুরি বৈঠক ভারতে ...

মানবতাই আমাদের মূল পাথেয়, ভারত-জাপান সম্বাদ সম্মেলনে বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ...

কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে এপর্যন্ত পাঁচ দফা আলোচনা হয়েছে আন্দোলনকারী কৃষক সংগঠনগুলির। কিন্তু তাতে এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধান সূত্র বার হয়নি। এই পরিস্থিতেত কেন্দ্রীয় সরকারও নিজেদের কৃষক দরদী ভাবমূর্তি বজায় রাখতে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। একের পর প্রচারপত্র প্রকাশ করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মধ্যপ্রদেশের কৃষকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে করা বলেছেন। কিন্তু তারপরেও আন্দোলনকারীদের নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরানো যায়নি।