কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া প্রস্তাব বাতিল করে দিল আন্দোলনকারী কৃষক সংগঠনগুলি। বুধবার সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারী কৃষক নেতাদের ১০ দফার বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকেই কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে, নতুন তিনটি আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে এক থেকে দেড় বছর অপেক্ষা করা হবে। তা নিয়ে আলোচনা আর পর্যালোচনা চলতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকারের সেই প্রস্তাবের উত্তর সেসময় বৈঠকে উপস্থিত কৃষক নেতারা দেননি। তাঁরা সেই সময় বলেছিলেনম নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেই তাঁরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। বুধবার কেন্দ্রের প্রস্তাব নিয়েই বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারী কৃষক সংগঠনগুলি নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে। আর সেই বৈঠকেই কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে বলেই জানিয়েছে সংযুক্ত কৃষক মোর্চা। 

এদিন কৃষকদের বৈঠেকে স্থির হয়েছে নতুন তিনটি আইন প্রত্যাহার করতে হবে সরকারকে। পাশাপাশি কৃষকরা যাতে নূন্যনত সহায়ক মূল্য পায় তাও নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এদিন বৈঠকে আগামী ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসের দিনে দিল্লিতে ট্র্যাক্টর ব়্যালি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নতুন কমিটির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখা হবে বলেও জানান হয়েছে। এদিন সংযুক্ত কিষান মোর্চার জেনারেল বডির বৈঠকে সমস্ত সংগঠনের নেতারাই উপস্থিত ছিলেন। সংযুক্ত কিষান মোর্চায় প্রায় ৪০টি কৃষক সংগঠন যুক্ত রয়েছে। 

বৃহস্পতিবারই রাতের দিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাড়িতে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। তবে গতকাল বৈঠকের পর কৃষি মন্ত্রী জানিয়েছিলেন আলোচনা ঠিক দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে। শনিবার ফের কৃষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে সরকার। আর সেই বৈঠকেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি। 

গত ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লির উপকণ্ঠে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। সিংহু, গাজিপুর-সহ একাধিক সীমানায় অবস্থান বিক্ষোভ করছেন কয়েক হাজার কৃষক। মূলত পঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা সামিল  হয়েছেন এই আন্দোলনে। তবে দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যের কৃষকরা তাঁদের পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে নতুন তিনটি কৃষি আইনের সমর্থনে একাধিক প্রচারাভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা সেই প্রচারে সামিল হয়েছে। কৃষি মন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সকলেই নতুন তিনটি কৃষি আইনের পক্ষে সওয়াল করেছেন।