কৃষকদের উদ্বেগ দূর করার জন্য উদ্যোগী হলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি নিজে সাংবাদিক সম্মেলন করেন না, কিন্তু, মন কি বাত অনুষ্ঠান-সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি কৃষি আইনের সুবিধা ব্যাখ্যা করেছিলেন। এবার তিনি এগিয়ে দলেন তাঁর দুই সেনাপতি, মন্ত্রিসভার দুই সদস্য নরেন্দ্র সিং তোমর এবং এবং পীযূষ গয়াল-কে। বৃহস্পতিবারই নয়া কৃষি আইন ও কৃষকদের দাবী সম্পর্কে সাংবাদিক বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন এই দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শুক্রবার সকালে সএই সাংবাদিক বৈঠকের ভিডিও পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, 'এটা অবশ্যই শুনুন'।

কী বলেছেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী? কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর বলেছেন, সরকার কৃষকদের সকল উদ্বেগের সমাধান করতে প্রস্তুত। তিনি আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে। তোমর তাঁর ভাষণে বলেছেন সরকার মান্ডির শিকলের বন্ধন থেকে কৃষকদের মুক্ত করতে চেয়েছে। কৃষিপণ্য বিক্রির বিষয়টি মসৃণ করতে চেয়েছে। যাতে তারা তাদের পণ্য যে কোনও জায়গায়, যে কোনও ব্যক্তির কাছে, নিজের পছন্দমতো দামে, মান্ডির আওতার বাইরে বিক্রি করতে পারে তার চেষ্টা করেছে।

কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, কঋকদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁকে অনেকেই বলেছেন, কৃষি আইন রাজ্যের বিষয়, কেন্দ্র এই আইন তৈরি করতে পারে না। তাই, কৃষি আইন অবৈধ। কিন্তু, মোদী সরকার পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, কৃষি বাণিজ্যের বিষয়ে আইন তৈরি করার অধিকার কেন্দ্রের রয়েছে। বিষয়টি তাদের কাছে বিশদে ব্যাখ্যাও করা হয়েছে। এই আইনে এপিএমসি এবং এমএসপি প্রভাবিত হবে না বলেও দাবি করেছেন তিনি। তিনি আরও জানান, আইনের শর্ত অনুযায়ী কৃষক এবং প্রক্রিয়াকরক যখন কোনও চুক্তি করবে, তখন ফসলের ধরন অনুযায়ী কৃষকের জমিতে প্রক্রিয়াকারক কিছু পরিকাঠামো স্থাপন করবে। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পর সেখান থেকে তার পরিকাঠামোটি ভেঙে ফেলবে। তাদের জমি দখল হবে না।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত অপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়াল বলেছেন, অনেকের মনে উদ্বেগ রয়েছে, নয়া কৃষি আইনের ফলে কৃষকরা তাদের পণ্য ব্যক্তিগত বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হবে। এটি পুরোপুরি ভ্রান্ত। আইনে এমন কোনও বিধান নেই যা কৃষকদের এইরকম কোনও বাধ্যবাধকতার আওতায় নিয়ে আসে।