কৃষক আন্দোলন অব্যাহত। ৫১ দিনে পড়ল দিল্লির উপকণ্ঠে চলা অবস্থান বিক্ষোভ। বুধবার সিংহু সীমানায় অবস্থানকারী কৃষকরা লোহরি উৎসব পালন করেন। সেখানেও তাঁরা তুলে ধরেন নিজেদের সমস্ত দাবি। মোদী সরকারের আনা তিনটি কৃষি আইনের প্রায় এক লক্ষ প্রতিলিপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান হয় বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত কৃষক মোর্চার নেতা পরমজিৎ সিং। 


রবি ফসল ঘরে তোলার উপলক্ষ্যে লোহরি উৎসব পালন করা হয়। আর সেই উৎসবে যথেষ্ট উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রথা অনুযায়ী একটি আগুন জ্বালান হয়। আর তার চার দিকে প্রদক্ষণ করেন বহু মানুষ। সেই সময় উৎপাদিত রবি শস্য- চিনা বাদাম, ভূট্টার দানা,চাল আগুনের মধ্যে ফেলা হয়। সঙ্গে চলে লোকসঙ্গীত আর লোকনৃত্য। আন্দোলনকারী এক কৃষক জানিয়েছেন,  যেদিন কালো আইনগুলি কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাহার করে নেবে সেদিন তাঁরা বাড়ি ফিরে সমস্ত অনুষ্ঠান পালন করবেন। পঞ্জাবের আরেক কৃষক জানিয়েছেন লোহরির তাঁদের লড়াইকে সাফল করবে। 

অন্যদিকে এদিন হরিয়ানার শিক্ষামন্ত্রী কানওয়ার পাল গুজ্জর জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরামর্শে আপাতত কৃষি আইনের পক্ষে প্রচার অনুষ্ঠান থেকে তার সরকার বিরত থাকছে। কর্ণালগ্রামের ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে কৃষি আইনের সমর্থনে চলা অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন রাজ্য সরকার কৃষকদের সঙ্গে কোনও রকম মতভেদ চায় না। কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগেই কৃষি আইনের সমর্থনে বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছিল বেশ কয়েকটি রাজ্য।  রবিবার সেজাতীয় একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের। খট্টরের অনুষ্ঠানে বাধা হয়ে দাঁড়াছিল স্থানীয় কৃষকরা। অনুষ্ঠান মঞ্চে ভাঙচুর চালায় তারা। অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধা দেয় পুলিশ। কাঁদানে গ্যাসের সেল পাঠায়। শেষপর্যন্ত অনুষ্ঠান বাতিল করেন মুখ্যমন্ত্রী খট্টর। তারপরই অমিত শাহের এই পরামর্শ যথেষ্ট তাৎপর্য পূর্ণ বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।