আইআইটি মাদ্রাসের ছাত্রীর আত্মহত্যা নিয়ে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ ক্রমেই জোরদার হতে শুরু করেছে। আঙুল উঠতে শুরু করেছে মাদ্রাস আইআইটির এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে। সিপিএমের ছাত্রসংগঠন এসএফআই অভিযুক্ত  অধ্যাপকের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছে। এরমধ্যেই ছাত্রী ফতিমা লতিফের বাবা এক সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে ছাত্রীর বাবা জানান, আমার মেয়ে সব দিক থেকে এক নম্বরে ছিল। কিন্তু তাকে ইনস্টিটিউটে ক্রমাগত হয়রানি করা হয়েছে। একজন অধ্যাপক ক্রমাগত তাকে হয়রানি করে। যার জেরেই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। 

৯ নভেম্বর হস্টেলে নিজের ঘর থেকে ফতিমা লতিফের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। গলায় দড়ি দিয়ে আইআইটি মাদ্রাসার ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেন। কিন্তু হস্টেলের রুম থেকে ওই ছাত্রীর  কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। তবে ওই ছাত্রীর মোবাইল থেকে বেশ কিছু তথ্য উদ্ধার করা হয়।  ছাত্রীর মোবাইল থেকে এক অধ্যাপকের নাম উঠে এসেছে। মোবাইল থেকে জানা গিয়েছে, ওই অধ্যাপক দিনের পর দিন ওই ছাত্রীকে হয়রানি করেছে। ফতিমা লতিফের বাবা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় কখনও কম নম্বর পায়নি, যার জেরে আত্মহত্যা করেনি আমার মেয়ে। 

মাদ্রাজ আইআইটিতে প্রায়শই পড়ুয়া আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে।  ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচ জন আত্মহত্যা করেছে।  চলতি বছরে সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখে এস শহল কোরমাথ নামের ওসেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের এক পড়ুয়া আত্মহ্যা করেন। তিনি কেরালার বাসিন্দা ছিলেন। চলতি বছর জানুয়ারি মাসে এমটেকের এক পড়ুয়া আত্মহত্যা করেন। একজন অধ্যাপকও আত্মহত্যা করেন বলে জানা গিয়েছে। বেশিরভাগ আত্মহত্যার অবসাদের জেরে আত্মহত্যা করেন। আইআইটি কর্তৃপক্ষ  অবসাদের ভোগা পড়ুয়াদের জন্য বিনামূল্যে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করেছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি হস্টেলের সামনে কাউন্সিল বিভাগের নম্বর দেওয়া হয়েছে। তারপরেও কেন মাদ্রাজ আইআইটি এত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।