দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে। গত এক সপ্তাহ ধরে আক্রান্তের দৈনিক গড় দাঁড়িয়ে রয়েছে ৮০-৯০ হাজারের মধ্যে। সংক্রমণে রাশ টানটে আবার একটি নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্র। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলির কাছে আবেদান জানান হয়েছে, সামান্য উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের অ্যান্টিজেন টেস্টে নেগেটিভ রিপোর্ট আসলেও তাদের ক্ষেত্রে  আরটি পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে ব়্যাপিড টেস্ট করানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। করোনাভাইরাস পরীক্ষায় এই বিষয়টিকে সোনার মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়েছে। রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলিতে অ্যান্টিজেন টেস্টের থেকেও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছ আরটি পিসিআর এর মাধ্যমে আসা নেগিটিভ রিপোর্টের ওপর।  

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর আগেই ঘোষণা করেছে  ত্রুটি রয়েছে  অ্যান্টিজেন টেস্টে। কিন্তু তা সত্ত্বেও রাজ্য ও কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলগুলি অ্যান্টিজেন পরীক্ষার সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ এটিতে অনেকটাই কম খরচ হয়। আর সময়ও বাঁচে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে দিন কয়েক আগে  আইসিএমআর জানিয়েছিল কন্টেন্টমেন্ট জোনের বাসিন্দাদের অ্যান্টিজেন টেস্টে নেগটিভ রিপোর্ট এলেও তাদের ক্ষেত্রে আরটি পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু সংক্রমণের মাত্রা বাড়াকর সঙ্গে সঙ্গে এই নিয়ম আর শুধু করোনা আক্রান্ত বিচ্ছিন্ন এলাকা গুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী সামান্য উপসর্গযুক্ত ব্যক্তে যে স্থানেরই বাসিন্দা হোকনা কেন সেই ব্যক্তি যদি অ্যান্টিজেন পরীক্ষায় নেগেটিভ হয় তাহলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আরটি-পিসিআর টেস্ট করাতে হবে। আরটি-পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে পাওয়া রিপোর্টই সঠিক হলেই পক্ষান্তরে দাবি করা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে। 

দেশে করোনাভাইরাসের আক্রান্তের সংখ্যা দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ লক্ষ ছাড়াতে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা ৭৫ হাজারেরও বেশি। আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষ থাকা প্রথম তিনটি রাজ্য হল মহারাষ্ট্র, অন্ধ্র প্রদেশ আর তামিলনাড়ু। বিশ্বের করোনা আক্রান্তদেশের ক্রম তালিকায় ব্রাজিলকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। বর্তমান বিশ্বে দৈনিক আক্রান্তের গড়েও অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ভারত। যা নিয়ে কিছুটা হলেও উদ্বেগ বাড়ছে কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে।