দুজনেরই বয়স ৭০-এর ঘরে। দুই মহিলাই ভর্তি ছিলেন একই বেসরকারি হাসপাতালে। গত ১১ ফেব্রুয়ারি মৃত্যু হয় দুজনেরই। একজন হিন্দু, একজন মুসলিম। তাঁদের পরিবারের হাতে দেহ তুলে দেওয়ার সময় হাসপাতালের তরফে হল বড় গন্ডোগোল আর তার জেরে মুসলিম মহিলার দেহ দাহ করা হল হিন্দু ধর্মমতে। এই নিয়ে বিপাকে পড়েছে ওই হাসপাতাল। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করেছেন মুসলিম মহিলার পরিবার।

৭৩ বছরের ইশরাত মির্জা বেশ কয়েকদিন ধরে ভর্তি ছিলেন লখনউ-এর সাহারা হাসপাতালে। সেখানেই ভর্তি ছিলেন ৭৮ বছরের অর্চনা গর্গ। মৃত্যুর পর গর্গ পরিবারের হাতে ইশরাত মির্জার দেহ তুলে দেয় বলে অভিযোগ ইশরাতের আমেরিকা নিবাসী পুত্র সঈদ মির্জা-র। বিষয়টি তাঁরা বোঝেন দেহ হাতে পাওয়ার একদিন পর। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যোগাযোগ করেন তাঁরা। কিন্তু ততক্ষণে অর্চনা গর্গ হিসাবে ইসরাত মির্জার দেহের অন্তিম সংস্কার হয়ে গিয়েছে।

এরপরই, ওই হালপাতালে অঙ্গ পাচার চক্র সক্রিয় রয়েছে, এবং তা ধামাচাপা দিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে এই ভুল করা হয়েছে বলে পুলিশে অভিযোগ করেন সঈদ। তাঁর দাবি মৃতদেহে কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। সমাধিক্ষেত্রে অনধিকার প্রবেশ-এর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সঈদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি মামলা রুজু করেছে বলে জানা গিয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও তাদের তরফে এই বিষয়ে গাফিলতির অভিযোগ মেনে নিয়েছে। তাদের যোগাযোগ প্রধান গোলাম জিশান জানিয়েছেন, এই ক্ষেত্রে হাসপাতালের স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল মানা হয়নি। যে কর্মীদের গাফিলতির জন্য এই কাণ্ড ঘটেছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।