ওড়িশায় দৈত্যের মত পা ফেলে এগোচ্ছে  সাইক্লোন ফণী। বুধবার সন্ধেয় যে সাইক্লোন ছিল ৬২০ কিমি দূরে, বৃহস্পতিবার তাই আর মাত্র ৪৫০ কিমি দূরে অবস্থান করছে সে। শক্তি বাড়িয়ে ক্রমেই সামনে এগোচ্ছে ঘুর্ণীঝড় ফণী। ওড়িশা প্রশাসনের তরফে  সরানো হচ্ছে সাড়ে আট লক্ষ লোককে।  ইতিমধ্যেই ওড়িশার ১৯টি জেলায় জারি হয়েছে সতর্কতা। বলা আয়লা বা হুদহুদের চেয়েও বড় আকার নিতে পারে ফণী। এই অবস্থায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ব্যাপারে জারি হয়েছে নিষেধাজ্ঞা।  পরিস্থিতি সামাল দিতে নাাকনি চোবানি খাচ্ছে পুরীর মন্দিরের সেবায়েতরাও। 

পুরীর মন্দিরের মূল ধ্বজাটি যেটি মন্দির শীর্ষে থাকে, তার মূল দৈর্ঘ্য ২১ ফুট। এদিনের ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে ধ্বজাটিকে রক্ষা করার জন্যেই ছোট একটি সাড়ে সাত ফুটের ধ্বজা লাগানো হয়।  মন্দির কর্তৃপক্ষ জানান দিচ্ছে সেই ধ্বজাটিও উড়ে গিয়েছে। এই পতাকাটি অসময়ে খুললে বন্ধ রাখতে হয় পুজোপাঠ।
এতেই অমঙ্গলচিহ্ন দেখছেন মন্দিরের সেবায়েতরা। স্থানীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই পতাকাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের থেকে পুরীর মন্দিরের রক্ষাকর্তা।

১২ শতকে 'পতিতপাবন বনা' নামক পতাকাটি জগন্নাথ মন্দিরের ওপর সুদর্শন চক্রের মাথায় বসানো হয়। কথিত রয়েছে, পতাকাটি নাকি বাতাসের উল্টোদিকে ওড়ে। গরমকালে প্রতিদিন বিকেল পাচটায় ও শীতকালে আরেকটু দেরীতে পতাকা নামানো হয়। এই দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত মন্দির প্রাঙ্গনে ভীড় জমায়।

প্রসঙ্গত ফণী আঘাত হানতে পারে কলকাতাতেও। বৃহস্পতিবার ফণীর প্রভাবে ঘণ্টায় কলকাতায় ৬০ কিমি বেগে ঝড় বইতে পারে। শক্তি সঞ্চয় করে এই ঘূর্ণাবর্ত পরের দুইদিন অর্থাৎ শুক্র ও শনিবার ৮৫ থেকে ১১৫ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে। এদিকে ন্যাশানাল এমার্জেন্সি রেসপন্স সেন্টার জানাচ্ছে ওই দুদিন ন্যুনতম ৭০ থেকে সর্বোচ্চ ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।