রবিবার জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি ও পুঞ্চ জেলায় সারারাত ধরে চলা অবিরাম বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে চারজন নিহত ও পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন এবং নদীর জল উপচে নীচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে পুঞ্চ জেলায় একটি বাড়ি ধসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
রবিবার জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি ও পুঞ্চ জেলায় সারারাত ধরে চলা অবিরাম বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে চারজন নিহত ও পাঁচজন নিখোঁজ হয়েছেন এবং নদীর জল উপচে নীচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বহু মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে হয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে পুঞ্চ জেলায় একটি বাড়ি ধসে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রাজৌরিতে ধস, আকস্মিক বন্যা ও ভারী বৃষ্টির কারণে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ অন্তত পাঁচজনের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলো তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পুঞ্চের হাভেলি এলাকায় সাতটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যার সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে রাজৌরি শহরে। নদীর জল উপচে বহু গাড়ি ভেসে গিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধার ও ত্রাণ দলগুলো বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে য়াওয়ার কাজ শুরু করেছে। ২৩ জুলাই পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এই সতর্কবার্তার মধ্যেই এই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা থেকেই রাজৌরি জেলায় বৃষ্টিপাত শুরু হয় এবং এরপর সারারাত ধরে চলা প্রবল বর্ষণে নদী ও নালাগুলো উপচে পড়ে।
বৃষ্টিপাতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রিয়াসিতে সর্বোচ্চ ১০৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর রয়েছে রাজৌরি (১০৩ মিমি), উধমপুর (১০১.৬ মিমি), কাটরা (৮৫ মিমি), পুঞ্চ (৭৭ মিমি) এবং বাতোট (৫৭.৫ মিমি)। রাজৌরির প্রধান নদীগুলো—যেমন দারহালি, খান্ডলি, সুকতোহ এবং জামোলা—ফুঁসে উঠেছে এবং এগুলোর বেশিরভাগই বিপদসীমার কাছাকাছি বা তার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যার ফলে বেশ কিছু নীচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বেলা কলোনির কাছে দারহালি নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়াতে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জল ঢুকে পড়ে এবং সেখানে বহু যানবাহন তলিয়ে যায়। আবদুল্লা ব্রিজের কাছের বস্তি এলাকাটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে বন্যার জল ঢুকে পড়ায় ৫০টিরও বেশি পরিবার ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। তারিক ব্রিজের কাছের এলাকাটিও বন্যার জলে তলিয়ে গেছে।
বন্যার ঝুঁকি অব্যাহত থাকায় পুলিশ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টহল ও মাইকিং চালিয়ে যাচ্ছে এবং নদীর তীরবর্তী ও নীচু এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানাচ্ছে। জেলা প্রশাসনও জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধারকাজ সমন্বয় ও ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তার জন্য পুলিশ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে।
রাজৌরির বিধায়ক ইফতিখার আহমেদ জানিয়েছেন যে, আকস্মিক বন্যায় সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহমেদ বলেন, "আকস্মিক বন্যায় সরকারি ও ব্যক্তিগত সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় আমি আমার দলের কর্মসূচি বাদ দিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছি।" তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য অবিলম্বে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসনের প্রতি।
