আগামী বছরের মধ্যে ভারত মহাসাগরে আরও শক্তি বৃদ্ধি করবে ভারত। সূত্রের খবর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চারটি অ্যান্টি সাবমেরিন পি-৮আই হাতে পাবে ভারত। ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে নজরদারী চালানোর পাশাপাশি জ্যামিং ক্ষমতা সম্পন্ন এই যুদ্ধ বিমান নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও মনে করছে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। নয়াদিল্লি ও সিয়াটেলের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে ২০২১ সালের পরেই এজাতীয় আরও ৬টি যুদ্ধ বিমান কেনার পরিকল্পনাও ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। 

ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে পি-৮এ-র পাশাপাশি পি-৮আই যুদ্ধ বিমানও হাতে আসবে। এটি মূলত সমুদ্রে  টহল দেওয়ার জন্যই তৈরি করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি সূত্র মারফত জানাগেছে এর সঙ্গে যুক্তরয়েছে হারপুন ব্লক-২ এয়ার লঞ্চার, লাইটওয়েট ক্ষেপণাস্ত্র। পাশাপাশি এটি বহন করতে পারে ১২৯ সোনোবুইস। যেটি সাবমেরিনকে ধ্বংস করতে সক্ষম। পাশাপাশই যুদ্ধজাহাজ বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্রও চালাতে পারে এজাতীয় যুদ্ধ বিমান। 


দক্ষিণ চিন সাগরে রীতিমত তৎপরতা বাড়াচ্ছে চিন। চিনের অগ্রাসনের দিকে নজর রেখেছে ভারতীয় নৌবাহিনীও। বেজিং ইতিমধ্যেই মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, ইরান ও পূর্ব আফ্রিকায় এখাধিক বন্দর তৈরি করেছে। যা শুধু পক্ষান্তরে ভারতে নৌবাহিনীকে চ্যালেঞ্জ জানন নয়। মার্কিন, ফরাসি ও ব্রিটিশ জলশক্তিকেও চ্যালেঞ্জ জানান বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা। 

মায়ানমারে কিউকপিউ বন্দরের ৭০ শতাংশই চিনের অধিগ্রহণে রয়েছে। যাতে বেজিং সহজেই বঙ্গোপসগরে হাত বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কায় হাম্বানটোটো বন্দরটি অধিগ্রহণ করায় ভারতমহাসাগরেরর জলেও দখলদারি বজায় রেখেছে। 

এক কর্মকর্তার কথায় জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনাকারীরা মনে করেছিলেন যে ভারত মহাসাগরের চিনের আধিপত্য বিস্তার কিছুটা হলেও রুখে দেওয়া গেছে। চিন বিরোধী স্কোয়াডের আলোচনাকে অগ্রগতি প্রদানে ভারতের ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য সদস্যদেশগুলির সঙ্গে আলোচনাও হয়েছিল। তারই ফলস্বরূপ যোগাযোগ, সামঞ্জস্যতা আর সুরক্ষা চুক্তি হয়। আর তাতেই সাহায্য করেছিল পি-৮আই। কারণ বিমান চলাচল অনেক বেশি নিরাপদ বলেই মনে করা হয়েছিল। 

পাশাপাশি একটি সূত্র থেকে দাবি করা হয়েছে, একটি বিমানকে অন্যান্য পি-৮আই বিমানের সঙ্গে খুব সহজেই যোগ করা যায়। যা রিয়েল টাইম অপারেশনাল ইন্টেলিজেন্স ভাগ করে নিতে সক্ষম হয়। এই প্রযুক্তি অন্যত্রও ব্যবহার করা যেতে পারে। ভারতীয় সেনা বাহিনী এটি লাদাখ ও ডোকালামে এটি ব্যবহার করেছিল। এটির ব্যাপ্তি প্রায় ২২০০ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ গতি ৪৯০ নট বা ৭৮৯ কিলোমিটার প্রতিঘণ্টা। এক কর্তার কথায় ২০১২ সাল থেকেই এই যুদ্ধ বিমান কেনার কথা হয়ে আসছে।