৬ মাসের কম বয়সি শিশুদের খাবারে আর চিনি বা ফ্রুক্টোজ মেশানো যাবে না। শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এমনই এক খসড়া প্রস্তাব আনল ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI)।
ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (FSSAI) এবার শিশুদের পুষ্টির দিকে কড়া নজর দিচ্ছে। একটি সরকারি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা জানিয়েছে, ৬ মাস পর্যন্ত বয়সি শিশুদের খাবারে সুক্রোজ এবং ফ্রুক্টোজ মেশানো নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর জন্য 'ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (ফুডস ফর ইনফ্যান্ট নিউট্রিশন) রেগুলেশনস, ২০২০'-এর একটি সংশোধনী খসড়া প্রকাশ করেছে তারা।
শিশুদের খাবারে চিনি নয়
বর্তমান নিয়মকানুন আরও কড়া করতে শুক্রবার 'ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (ফুডস ফর ইনফ্যান্ট নিউট্রিশন) অ্যামেন্ডমেন্ট রেগুলেশনস, ২০২৬'-এর একটি খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। শিশুদের বয়স অনুযায়ী সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে, জীবনের একদম শুরুর দিকে শিশুদের যাতে অতিরিক্ত চিনি খেতে না হয়, সেদিকেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে জন্ম থেকে ২৪ মাস বয়সি শিশুদের খাবারের পুষ্টিগুণ, মান এবং নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু নিয়ম চালু আছে। এখনকার নিয়ম অনুযায়ী, কার্বোহাইড্রেটের উৎস হিসেবে ল্যাকটোজ এবং গ্লুকোজ পলিমারকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে দরকার হলে নির্দিষ্ট মাত্রায় সুক্রোজ বা ফ্রুক্টোজ মেশানোর অনুমতি রয়েছে।
নতুন খসড়ায় এই নিয়মগুলোকেই আরও একটু বদলে ৬ মাস পর্যন্ত বয়সি শিশুদের খাবারে সুক্রোজ এবং ফ্রুক্টোজ মেশানোর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা চাপানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাবে পরিষ্কার বলা হয়েছে, "৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের জন্য তৈরি কোনও খাবারে সুক্রোজ এবং ফ্রুক্টোজ মেশানো যাবে না।"
জন্মের পর প্রথম ছ'মাস শিশুদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। তাই এই সময় সঠিক পুষ্টির দরকার হয়। নতুন এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হল, অকারণে সুক্রোজ বা ফ্রুক্টোজ না মিশিয়েই যাতে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা মেটানো যায়, তা নিশ্চিত করা। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ছোটবেলা থেকেই অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে শিশুদের মধ্যে ওবেসিটি বা স্থূলতার মতো নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এই পদক্ষেপের ফলে সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যাবে।
শিশুদের জন্মের ৬ মাস পর্যন্ত কী কী খাওয়াবেন?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের পর প্রথম ছ'মাস শিশুদের শুধুমাত্র মায়ের দুধই খাওয়ানো উচিত। নতুন এই উদ্যোগ সেই পরামর্শকেই আরও জোরালো করছে। শিশুদের খাবারের মান আরও উন্নত করার পাশাপাশি, প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলোকেও শিশুদের সঠিক পুষ্টির কথা মাথায় রেখে খাবার তৈরিতে উৎসাহ জোগাবে এই সংশোধনী।
বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে খাবারের মান বজায় রাখা এবং সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার দিকে FSSAI যে কতটা নজর দিচ্ছে, তা এই প্রস্তাব থেকেই স্পষ্ট। দেশের জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে, একদম ছোটবেলা থেকেই শিশুদের পুষ্টির সুরক্ষা দেওয়াটা যে কতটা জরুরি, সেটাও এখানে তুলে ধরা হয়েছে।
FSSAI আপাতত এই খসড়া বিজ্ঞপ্তিটি সাধারণ মানুষের মতামতের জন্য প্রকাশ করেছে। অফিশিয়াল গেজেটে এটি প্রকাশের দিন থেকে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে তাদের মতামত বা আপত্তি জানাতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাওয়া সব মতামত খতিয়ে দেখার পরই এই সংশোধনী চূড়ান্ত করবে FSSAI।








