করোনাভাইরাস-এর বিরুদ্ধে লড়তে লড়ততে শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয়েছে চেন্নাই-এর কৃতী নিউরোসার্জন ডাক্তার সাইমন হারকিউলিস-এর। কিন্তু, সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক, মৃত্যুর পর এই করোনা-যোদ্ধা নশ্বর দেহকে সহ্য করতে হয়েছে স্থানীয়দের হেনস্থা। বুধবার তাঁর স্ত্রী এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে, তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এদাপ্পাদি কে পলানিস্বামী-র কাছে  সজল চোখে আবেদন করলেন, তাঁর স্বামীর শেষ ইচ্ছাটুকু যেন সরকার পূর্ণ করে।

তাঁর রোগীদের থেকেই কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছিলেন ডাক্তার হারকিউলিস। কিন্তু, মৃত্যুর পর এই করোনাযোদ্ধা প্রাপ্য মর্যাদাটুকু পাননি। অ্যাম্বুল্যান্সে করে যখন তাঁর দেহ কবর দেওয়ার জন্য তাঁর দেহ চেন্নাই শহরের একটি কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই সময় সেই অ্যাম্বুল্যান্সের উপর হামলা চালিয়েছিল স্থানীয় জনতা। তাদের দাববি ছিল এই দেহ সেখানে কবর দেওয়া যাবে না, কারণ সেটি থেকে এলাকায় সংক্রমণ ছড়াবে। শেষে, তাঁর দুই সহকর্মী, এক অর্থোপেডিক এবং এক অর্থোস্কোপি সার্জনকে রবিবার গভীর রাতে চুপিসাড়ে শাবল দিয়ে নমাটি খুঁড়ে ডাক্তার হারকিউলিস-এর দেহ কবর দিতে হয়েছে।

ভিডিও বার্তায় ডাক্তার হারকিউলিস-এর স্ত্রী আনন্দী সাইমন বলেছেন, 'আমার স্বামী কোভিড-১৯ এর কারণে মারা গিয়েছেন। তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল, যদি এই রোগ থেকে ও বাঁচতে না পারে, তবে তাঁকে আমাদের রীতি মেনে সমাধি দিতে হবে'। আনন্দি সাইমনের আবেদন ডাক্তার হারকিউলিস-এর দেহ চেন্নাই পুরসভা পরিচালিত যে কবরস্থানে সমাধিস্থ করা হয়েছে, সেখান থেকে তুলে কিলপাউক অঞ্চলের খ্রিস্টান কবরস্থানে ফের সমাধিস্থ করা হোক। তবে এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সেই কবরস্থানটি একেবারে পরিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে, নতুন সমাধির জায়গা নেই।

ডাক্তার সাইমন হারকিউলিস-এর দেহ বহনকারী অ্যাম্বুল্যান্সের উপর হামলার ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। সরকারি চিকিৎসক সমিতি বলেছে, পুলিশদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাঠানো উচিত ছিল। ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বা আইএমএ-ও বিষয়টি নিয়ে তামিলনাড়ু সরকার-কে সতর্ক করেছে।

১৯৬৪-তে করোনাভাইরাস আবিষ্কার করেছিলেন এই মহিলা বিজ্ঞানী, কেউ তখন মানেনি তাঁর দাবি

লকডাউন উঠতেই চিনে চুমু খাওয়ার প্রতিযোগিতা, দেশেই উঠল সমালোচনার ঝড়

করোনা সংকটে জনপ্রিয়তা বাড়ছে প্রায় সব রাষ্ট্রনেতাদের, ব্যতিক্রম শুধু তিনজন

মাদ্রাজ হাইকোর্ট এই ঘটনার বিষয়ে নিজে থেকেই পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা তামিলনাড়ু সরকারকে এই বিষয়ে নোটিশ পাঠিয়েছে। তারপরই চেন্নাই পুলিশ অ্যাম্বুল্যান্সে হামলা চালানোর অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ২১ জনকে আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামা করা-সহ বেশ কয়েকটি অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।