আগামী স্বাধীনতা দিবসে দেবে করোনার ভ্যাকসিন আত্মপ্রকাশ করবে, এমনটাই দাবি করেছিল আইসিএমআর। এই খব সামনে আসতেই দেশজুড়ে আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। এত কম সময়ের মধ্যে হিউম্যান ট্রায়াল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। এর পরেই নিজেদের অবস্থান বদলে দেশের বিজ্ঞান মন্ত্রক জানিয়ে দেয় ২০২১ সালের আগে ভারতের বাজারে কোনও করোনার টীকা আসছে না। করোনার ভ্যাকসিনের আবিষ্কার কাজ কতটা এগোল তা নিয়ে যখন সরগরম গোটা দেশ তখনি সকলকে অবাক করে দিয়েই পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম প্রধান রিসার্চ ইনস্টিটিউট থেকে।

এদেশে রোটাভাইরাস ভ্যাকসিন প্রস্তুতের অন্যতম পুরোধা ছিলেন ডঃ গগনদীপ কাং। করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি নিরলস প্রচেষ্টা করে চলেছেন। সেই গগনদীপই এবার কেন্দ্রের  বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে থাকা ফরিদাবাদের ট্রান্সলেশনাল হেলথ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।

আরও পড়ুন: মহাভারতে যুদ্ধ জিততে লেগেছিল ১৮ দিন, আর ১০০ দিন পার করেও ব্যর্থ কেন্দ্র, পুরনো সঙ্গীর তোপ মোদীকে

গগনদীপ কাং একজন ক্লিনিশিয়ান বিজ্ঞানী। তিনি ভেলোরে অবস্থিত ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল বিজ্ঞান বিভাগের একজন অধ্যাপিকা। এছাড়াও ফরিদাবাদে অবস্থিত ভারত সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্বায়ত্বশাসিত ট্রান্সলেশনাল স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট-এর অধিকর্তা ছিলেন শ্রীমতী কাং। ২০১৯ সালে তাঁকে  ইংল্যান্ডের বিখ্যাত এবং মর্যাদাপূর্ণ রয়াল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত করা হয়। সোসাইটির ৩৬০ বছরের ইতিহাসে গগনদীপ কাংই প্রথম ভারতীয় মহিলা যিনি এই সম্মানের অধিকারী হন।

রবিবারই রাশিয়াকে ছাড়িয়ে আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে তৃতীয় স্থানে চলে এসেছে ভারত। সোমবার দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এই অবস্থায় গগনদীপ কাং-এর পদত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেকেই ভ্যাকসিন তৈরিতে ভারতের সরকারের  অবস্থানের সঙ্গে তাঁর মতান্তরকেই এই সিদ্ধান্তের কারণ বলে জানাচ্ছেন। যদিও প্রখ্যাত এই বিজ্ঞানী জানিয়েছেন,  তিনি একেবারেই ব্যক্তিগত কারণে এই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ডঃ গগনদীপ কাং বলেন, “আমি পদত্যাগ করেছি। গত বছরেই ছাড়তে চেয়েছিলাম। অনেক বছর বাড়ি থেকে দূরে রয়েছি। এবার আমার বাড়ি ভেলোরে ফিরে যেতে চাই।”

আরও পড়ুন: এইচ-১ বি'র পর এবার পড়ুয়াদের ভিসা বাতিলের পথে আমেরিকা, আশঙ্কার মেঘ ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে

তবে জানা যাচ্ছে রোটাভাইরাসের মত করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি নিরলস প্রচেষ্টা করে চলেছিলেন। ডঃ কাং-এর নেতৃত্বে সারস-কোভ২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিজেন তৈরির কাজ চালাচ্ছিলেন অনেক গবেষকই। কিন্তু গত মে মাসে হঠাৎই ইনস্টিটিউটিতে করোনা ভ্যাকসিন তৈরির কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই বিষয়ে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর এক সদস্য বলেন, আইসিএমআর জানতে পারে তাঁদের কাজের সঙ্গে বিজ্ঞানী গগনদীপের কাজ ‘ওভারল্যাপ’ করেছিল।