গালওয়ান সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছে চিন। কিন্তু তারপরেও সীমান্তে নজরদারীতে ঢিলে দিতে নারাজ  ভারতীয় সেনা বাহিনী। লাদাখের বিস্তীর্ণ এলাকায় দিন রাতে নজরদারী চালাতে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ভারতীয় বায়ু সেনার পক্ষ থেকে। পাশাপাশি সবরকম আবহাওয়া ও সবরকম পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিত ফরোয়ার্ড লাইনেই রাখা হয়েছে ফাইটার জেটগুলিকে। সেনাবাহিনী সূত্রের খবর  চিনকে বিন্দু মাত্র ভরসা না করেই সীমান্ত নিরাপত্তার দিকেই বেশি জোর দিতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। 

 বিমান বাহিনী সূত্রে খবর ফ্রন্ট লাইনে রাখা হয়েছে মিগ-২৯, সুখোই-৩০, অ্যাপাচে এইচ ৬৪ই আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার হিসেবে চিহ্নিত সিএইচ৪৭(আই), চিনুক মাল্টি মিশন হেলিকপ্টার। সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় রাতেও মিশন পরিচালনা করতে সক্ষম এই যুদ্ধ বিমানগুলি। লাদাখে ১৯৬২ সালের এটাই ছিল প্রথম দীর্ঘতম স্ট্যান্ডঅফ  ভারতীয় ও চিনা সেনাদের মধ্যে। মঙ্গলবার থেকে দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনা কিছুটা কম হয়েছে। কিন্তু এখনও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলেই মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতীয় বায়ু সেনার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারত যে সবরকম পরিস্থিতিতে ও সবরকম আবহাওয়ায় প্রতিপক্ষকে মোকাবিলা করতে সক্ষম সেই বার্তাও দিয়ে দিচ্ছে চিনকে। তিনি আরও বলেছেন ভারতীয় বিমান বাহিনী চিনকে পরোক্ষে জানিয়ে দিচ্ছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম আমরা। যখন প্রয়োজন হবে তখনই এটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারব। সেনা বাহিনী সূত্রের খবর যে কোনও পেশাদার শক্তির সঙ্গে সবসময় লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে ভারত। 

লকডাউনের ১০৫তম দিনে করোনা সংক্রমণে বিশ্বে তৃতীয় ভারত, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২০ হাজার ...

তবে আগে বিমান বাহিনীর সীমাবদ্ধতা ছিল  বলেও মেনে নিয়েছেন প্রাক্তন এক অধিকারিক। তিনি বলেছেন রাতের বেলা পাহাড়ে উড়তে পারে এমন যুদ্ধবিমানের সংখ্যা ছিল হাতেগোনা। কিন্তু পরবর্তীকালে সেই বাধা কাটিয়ে উঠেছে ভারত। পাশাপাশি দেশে বিদেশে প্রশিক্ষণ নিয়ে রাতের অন্ধকারে শত্রু মোকাবিলায় রীতিমত দক্ষ হয়ে উঠেছেন ভারতীয় পাইলটরা। 
লকডাউনের ভারতে বেড়েছে নারী নির্যাতনের ঘটনা, কী বলছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ...

ভূপালের রাস্তায় করোনা রোগীর দেহ, কেন এই অমানবিকতা, তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়ায় ...
বিমান বাহিনীর এক কর্তার কথায় অ্যাপাচে ও চিনুক হেলিকপ্টার আরও শক্তিশালী করেছে ভারতীয় বাহিনীকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা অ্যাপাচে হেলিকপ্টার একসঙ্গে ১২৪টি নিশানা লক্ষ্যভেদ করতে পারে। চিনুক সেনা ও আর্টিলারিগুলি খুব সহজে ও চটজলদি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিবহণ করতে পারে। কিন্তু এখনও কিছুটা ঘাটতি থেকেই গেছে বলে স্বীকার করেছেন এর সেনা কর্তা। তাঁর কথায় সেই ঘাটতি মেটাতেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক গত সপ্তাহে ৩৩টি যুদ্ধ বিমান কেনার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।