গ্যাংস্টার বিকাশ দুবের শেষকৃত্যে সামিল হলেন স্ত্রী রিচা বৃহস্পতিবারই রিচাকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ স্বামীর প্রতিটি পদক্ষেপে মদত জোগাতেন রিচা শ্মশানঘাটে অকথ্য গালাগালি দিতে দেখা যায় তাঁকে


উত্তরপ্রদেশের মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধী বিকাশ দুবেকে উত্তরপ্রদেশের এসটিএফ এনকাউন্টারে মেরে ফেলেছে ৷ এনিয়ে এখন সরগরম সেদেশের রাজ্যরাজনীতি। পুলিশের এই এনকাউন্টার নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন। এরমাঝেই কানপুরের ভ্যাঁয়সা কুন্ডে স্বামীর শেষকৃত্যে সামিল হলেন স্ত্রী রিচা। ছোট ছেলেক নিয়ে শ্মশানে এসেছিলেন বিকাশের অর্ধাঙ্গিনী। পুলিশি পাহাড়ার মধ্যেও তাঁকে দেখেই সংবাদমাধ্যম ও চিত্র সাংবাদিকরা ঝাঁপিয়ে পড়ে। উৎসাহীদের প্রশ্নের জবাবে শুধু একটি কথাই বলতে শোনা যায় তাঁকে। 'বিকাশ ভুল ছিল, এই পরিণাম তাঁর প্রাপ্যই ছিল।' যেন বিকাশের মৃত্যু যে অবধারিত ছিল তা জানতেন রিচা। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিকাশের শেষকৃত্যে মেজাজ হারাতেও দেখা যায় তাঁর ২৪ বছরের সঙ্গীকে। সাংবাদিকদের হুড়োহুড়িতে বিরক্ত হয়ে হঠাত রেগে যান রিচা। চিত্‍কার করে বলে ওঠেন, আমাদের জন্য এখানে একটু জায়গা ফাঁকা করে দিন। শুধু তাই নয়, মেজাজ হারিয়ে কুকথাও বলতেও শোনা গিয়েছে তাঁকে। বিকাশের এনকাউন্টারের পিছনে সাংবাদিকরাও একাংশে দায়ি বলে অভিযোগ করেছেন রিচা।

আরও পড়ুন: গাড়ি বদল হয়েছিল বিকাশের, এনকাউন্টারের আগে আটকানো হয় মিডিয়াকেও, ক্রমে জটিল হচ্ছে রহস্য

তবে প্রকৃত অর্থেই বিকাশের সহধর্মিনী ছিলেন রিচা। স্বামীর প্রতিটি পদক্ষেপে পা মিলিয়ে অপরাধে দুনিয়ায় সম্রাজ্ঞী হয়ে উঠেছিলেন তিনি। প্রেম করেই ২৪ বছর আগে বিকাশের সঙ্গে ঘর বেঁধেছিলেন রিচা। জানা যায় রিচা ছিলেন বায়ুসেনার এক কর্মীর সন্তান। তখন বিকাশের পিসির বাড়ির পাড়াতেই আবাসনে থাকত রিচার পরিবার। বাড়িতে আপত্তি থাকায় ১৯৯৭ সালে পালিয়ে বিকাশকে বিয়ে করেছিলেন রিচা। তবে এর কয়েকদিন পরেই বাড়ি ফিরে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু অপরাধ জগতে নামলেখানো বিকাশের সঙ্গেই শেষপর্যন্ত ফিরতে হয় রিচাকে। তারপর থেকে শুরু হল দীর্ঘ প্রায় ২৪ বছরের পথচলা। 

জানা যায়, বিকাশের সব অপরাধমূলক কাজের সঙ্গীও ছিলেন রিচা। গ্যআংস্টার বিকাশকে সমস্ত কাজে সমর্থন জুগিয়ে গিয়েছিলেন। তা সে অপরাধমূলক কাজই হোক বা রাজনীতির জগৎ। সে সময় বিকাশের বিভিন্ন কাজে সঙ্গী ছিল রিচার দাদা রাজুও। কিন্তু পরে সে বোন-ভগ্নিপতির সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে। কিন্তু থেকে গিয়েছিলেন রিচা। 

সূত্রের খবর, বিকরু গ্রামের বাড়িতে না থাকলেও সিসিটিভি ক্যামেরায় কাজকর্মে নজর রাখত রিচা। বেশিরভাগ সময় কানপুরে থাকলেও তার মোবাইলে লিংক জোড়া ছিল গ্রামের বাড়িতে । বিকরু গ্রামের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে রিচার মোবাইল ফোন উদ্ধার করে পুলিশ। ২০১৭-য় এসটিএফ বিকাশকে গ্রে্প্তার করেছিল। তখন সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল রিচা। যাতে পুলিশ এনকাউন্টারে বিকাশকে মারতে না পারে। বাড়ির কর্মী ও পরিচারকরা ‘ভাবিজি’র ভয়ে সর্বদা তটস্থ থাকত। 

আরও পড়ুন: খোঁড়া পায়ে দৌড়ল কীভাবে বিকাশ, এনকাউন্টার ঘিরে পুলিশের দিকে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন

গত বৃহস্পতিবারই লখনউয়ে রবীন্দ্রনগরের বাড়ি থেকে পুলিশ রিচাকে সন্তান-সহ গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে বিকাশকে মদত ও পালাতে সাহায্য করার অভিযোগও আনা হয়েছে। সূত্রের খবর, চৌবেপুর গ্রামে পুলিশের উপর হামলার ষড়যন্ত্রেও যুক্ত ছিল রিচা। স্বামীর হাত ধরে পা রেখেছিল রাজনীতিতে। বিকাশ ও রিচার দুই সন্তান। বড় ছেলে আকাশ বিদেশে ডাক্তারি পড়ছে। ছোট শানু কলেজছাত্র। মায়ের সঙ্গে লখনউয়ে থেকে পড়াশোনা করত সে। 

পুলিশের এনকাউন্টারে ছেলের মৃত্যুসংবাদ পেয়েও শেষযাত্রায় সামিল হননি বিকাশের বাবা-মা। বিকাশের বাবা রাম কুমার দুবে শুক্রবারই বলেছিলেন, 'ছেলের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই, পুলিশ যা মনে করবে তাই-ই করবে। আমি ছেলের শেষযাত্রায় উপস্থিত থাকতে পারব না।'

ছেলের মৃত্যু সংবাদ পাওয়ার পরই ঘরবন্দি রয়েছেন তাঁর মা সরলা দেবী। পুলিশের সঙ্গে কানপুরে যেতে অস্বীকার করে তিনি। গ্যাংস্টার বিকাশের মৃত্যুর পর তাঁর বাড়ির কোনও সদস্যই হাসাপাতালে যাননি দেহ নিতে। শ্মশানঘাটেও তাঁদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। বিকাশের দেহ নিতেও অস্বীকার করে পরিবার।