জিডিপির পর এবার জিএসটি। অগাস্টে দেশের জিএসটি আদায়ের পরিমাণ কমে দাঁড়াল এক লক্ষ কোটি টাকার কম। স্বাভাবিকভাবেই যা চিন্তা বাড়াল দেশের অর্থমন্ত্রীর।

দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করার দিনেই ফের দেশের অর্থনীতিতে বড়সড় ধাক্কা খেল মোদি সরকার। রবিবার জিএসটির সংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেল,অগাস্টে দেশে মোট পণ্য পরিষেবা কর আদায় হয়েছে ৯৮,২০২ কোটি টাকা। জুলাইতে যে সংখ্যাটা ছিল ১ লক্ষ ২ কোটি টাকা। গত বছরের থেকে অবশ্য় অগাস্ট মাসে প্রায় ৪.৫ শতাংশ বেশি জিএসটি আদায় করেছে সরকার। গত বছর এই মাসে জিএসটি আদায়ের পরিমাণ ছিল ৯৩,৯৬০কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রকের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি আর্থিক বর্ষে এই নিয়ে দু বার ১ লক্ষ কোটির কম জিএসটি আদায় হল সরকারের। অগাস্টের আগে জুন মাসেও এই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল অর্থমন্ত্রক। জুন মাসে দেশের পণ্য পরিষেবা কর আদায়ের পরিমাণ ছিল ৯৯,৯৩৯ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন : দীর্ঘমেয়াদী মন্দার কবলে দেশ, মোদী সরকারকে দায়ী করে সতর্কবার্তা মনমোহনের

আরও পড়ুন :৬ বছরে সর্বনিম্ন, আর্থিক বৃদ্ধির হার নামল ৫ শতাংশে

দেশের সাম্প্রতিক অর্থনীতির পরিসংখ্যান বলছে,মোদি সরকারের আমলে খুব একটা সুখকর পরিস্থিতি নেই কোষাগারের। কদিন আগেই ভারতীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার কোটি টাকা সরকারকে দেয় রিজার্ভ ব্য়াঙ্ক। এখানেই শেষ নয়,খরচ কমাতে ১০টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্য়াঙ্ককে মিশিয়ে দেয় সরকার। অর্থমন্ত্রী পদে নির্মলা সীতারমণ শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক খারাপ খবর শুনতে হয়েছে তাঁকে। সম্প্রতি যার অন্য়তম উদাহরণ দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার ৫ শতাংশে কমে দাঁড়ানো। চলতি আর্থিক বর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকেই দেশের জিডিপি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশ।গত ছ' বছরে যা সর্বনিম্ন। জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত শেষ ত্রৈমাসিকে দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার ছিল ৫.৮ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষে এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে প্রথম ত্রৈমাসিকেই তা নেমে এসেছে ৫ শতাংশে। এর আগে ২০১২-১৩ অর্থবর্ষে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে আর্থিক বৃদ্ধির হার নেমেছিল ৪.৩ শতাংশে। তার পর আর এতটা কমেনি দেশের আর্থিক বৃদ্ধির হার। 

আরও পড়ুন :মিশে যাচ্ছে দশটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, বড় ঘোষণা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর

আরও পড়ুন :ব্যাঙ্ক সংযুক্তিকরণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কর্মীরা, সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে শিল্প মহল

দেশের অর্থনীতির এই পরিস্থিতিতে আরও চিন্তায় ফেলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির সংযুক্তিকরণ। যা উদ্বেগ বাড়িয়েছে ব্য়াঙ্ককর্মীদের। যদিও অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, ব্য়াঙ্কসংয়ুক্তিকরণে কারও চাকরি যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে অর্থমন্ত্রীর আশ্বাসেও আশ্বস্ত হতে পারছে না সাধারণ মানুষ। কারণ কদিন আগেই ব্যবসা কমে যাওয়ায় তিন হাজার অস্থায়ী কর্মী ছাটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মারুতি সুজুকি। এই ঘটনাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে দেশের অর্থনীতি নিয়ে স্বস্তিতে নেই মোদী সরকার। রবিবারই মনমোহন সিং বলেছেন দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশ। আর তার জন্য দায়ী মোদী সরকারের অর্থনীতিই।