যুক্তরাজ্য থেকে ভারতে আসার পর যাঁদের করোনা পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে, তাদের অর্ধেকই নতুন অতি সংক্রামক কোভিড-১৯ স্ট্রেনের সম্ভাব্য বাহক। বুধবার এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন হায়দরাবাদ সেন্টার অফ সেলুলার অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি-র ডিরেক্টর ডাক্তার রাকেশ মিশ্র। এখনও পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে আসা ২০ জন যাত্রীর দেহে করোনাভাইরাস পাওয়া গিয়েছে।

এদিন ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডাক্তার মিশ্র বলেছেন, যুক্তরাজ্য থেকে ভারতে আসা ২০ জন যাত্রী কোভিড পজিটিভ। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের করোনা ইতিবাচকদের ৬০ শতাংশের দেহেই নতুন স্ট্রেন দেখা যাচ্ছে। সেই গণনা মাথায় রাখলে ২০ জনের মধ্যে অর্ধেকের দেহেই সম্ভবত নতুন রূপান্তরটি পাওয়া যাবে। যুক্তরাজ্যের যেসব শহরে এখনও নতুন রূপান্তরটি সনাক্ত করা যায়নি, সেই সব শহর থেকে যদি কোনও যাত্রী এসে থাকেন তবে হয়তো তারা নতুন করোনার বাহক নাও হতে পারেন। তবে বেশিরভাগেরই নতুন রূপটি বহন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য থেকে এই করোনা পজিটিভদের ইতিমধ্যেই কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। তাই তাদের থেকে এই রূপান্তর ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে যাঁরা এক মাস আগে এসেছেন এবং যাঁদের কোয়ারেন্টাইন করা হয়নি, তাঁরা অ্যাসিম্পটমেটিক। ইতিমধ্যেই তাঁরা যা সংক্রমণ ছড়ানোর তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। কাজেই, তাঁদের আর এখন পরীক্ষা করার অর্থ নেই। তবে, গত দু-তিন সপ্তাহে যুক্তরাজ্য থেকে যারা এসেছে তাঁদের সন্ধান করে তাঁদের সংক্রমণের  জিনোম ক্রম করা দরকার বলে জানিয়েছেন ডাক্তার মিশ্র। এছাড়াও, বড় শহরগুলিতে বড় সংখ্যায় নতুন সংক্রমণের  জিনোম ক্রম করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাহলেই নিশ্চিত করা যাবে, করোনাভাইরাসের নতুন রূপটি ইতিমধ্যেই ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে কিনা, এবং কোথায় কোথায় ছড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, নতুন স্ট্রেনটি আগের থেকে প্রায় ৬০ শতংশ বেশি সংক্রামক। যদি ভারতে করোনভাইরাসের এই রূপান্তরটি ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে বিপুল সংখ্যক লোক নতুন করে সংক্রামিত হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে চিকিৎসা পরিষেবার উদ্বেগ বাড়বে। হাসপাতালে ভিড় আরও বাড়লে স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার পতন ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন, এই স্ট্রেনের উদ্ভবের বিষয়টা প্রথমেই জানাটা সৌভাগ্যের বিষয়। এর ফলে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার সময় পাওয়া গিয়েছে।