ভারতে গত কয়েক বছরে অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপনের বিষয়ে সচেতনতা বেড়ে গিয়েছে। অনেকেই প্রিয়জনদের মৃত্যুর পর অঙ্গদান করে অন্যদের নতুন জীবন দিচ্ছেন।

ব্রেন ডেডের পর পরিবারের সম্মতিতে চারজনকে নতুন জীবন দিতে পারলেন মীনা মেহতা নামে এক মহিলা। তাঁর দুই হাত পেয়ে ফের রং-তুলি ধরতে পারবেন এক চিত্রশিল্পী। কর্নিয়া পেয়ে দৃষ্টি ফিরে পেয়েছেন অপর একজন। আরও দুই ব্যক্তি যথাক্রমে কিডনি ও লিভার পেয়েছেন। দিল্লিতে প্রথমবার জোড়া হাত প্রতিস্থাপন হল। স্যার গঙ্গা রাম হসপিটালে ১২ ঘণ্টা ধরে চলা অস্ত্রোপচারের পর ৪৫ বছর বয়সি এই শিল্পীর হাত সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। অন্যের হাত দিয়েই ফের আঁকা শুরু করতে পারবেন এই শিল্পী। এই ঘটনায় মীনার পরিবারের সদস্যরা খুশি। তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন নতুন জীবন পাওয়া ব্যক্তিরা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দুর্ঘটনার চার বছর হাত ফিরে পেলেন শিল্পী

২০২০ সালে দুর্ঘটনায় দুই হাতই খোয়ান দিল্লির নাঙ্গলইয়ের বাসিন্দা রাজ কুমার নামে এই শিল্পী। তিনি সাইকেল নিয়ে রেললাইন পেরোচ্ছিলেন। সেই সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রেললাইনের উপরেই পড়ে যান এবং তাঁর হাতের উপর দিয়ে চলে যায় ট্রেন। এর ফলে এই শিল্পীর দুই হাতই বাদ যায়। স্যার গঙ্গা রাম হসপিটালের ডিপার্টমেন্ট অফ প্লাস্টিক অ্যান্ড কসমেটিক সার্জারির চেয়ারম্যান ড. মহেশ মঙ্গল জানিয়েছেন, ‘দুর্ঘটনার পর দৈনন্দিন কাজের জন্য অন্যদের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন রাজ কুমার। তাঁর কাছে উপায় ছিল হয় কৃত্রিম হাত ব্যবহার করা অথবা হাত প্রতিস্থাপন। তিনি কৃত্রিম হাত ব্যবহার শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। ফলে হাত প্রতিস্থাপন ছাড়া অন্য উপায় ছিল না।’

অনুমতি পাওয়ার এক বছর পর প্রতিস্থাপন

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর ভারতের প্রথম হাসপাতাল হিসেবে হাত প্রতিস্থাপনের অনুমতি পায় স্যার গঙ্গা রাম হসপিটাল। এতদিন অঙ্গদাতা পাওয়া যাচ্ছিল না। এবার সেই সমস্যা মিটতেই রাজ কুমারের হাত প্রতিস্থাপিত হল।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

আরও পড়ুন-

এশিয়ার প্রথম প্রবীণ ব্যক্তি, যিনি ৭৮ বছর বয়সে ফুসফুস প্রতিস্থাপন করে সুস্থ হয়ে উঠেছেন

বিশ্বে এই প্রথম, মানবদেহে শূকরের হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপন করলেন চিকিৎসকরা

দারুণ সাফল্য বাংলার, সাত ঘন্টার টানা অপারেশনে সফল ফুসফুস প্রতিস্থাপন