স্বাধীবনতার ৭৩ তম দিবসে নতুন ভারত গড়ার ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই নব্য রূপের ভারতে একদিকে তিনি যেমন তুলে ধরেছনে গত পাঁচ বছরের উন্নতির হিসাব, তেমনই টেনে এনেছেন নতুন সরকারে দশ সপ্তাহের হিসাব নিকেশ। সেইসঙ্গে তিনি তুলে ধরেছেন ভবিষ্যত ভারতের উজ্জ্বল রূপরেখার বিভিন্ন প্রকল্প। এক নজরে এই ২৪ ধাপ পরিকল্পনা। 


১) এফেক্টিভ গভর্নমেন্ট- বৃহস্পতিবার স্বাধীনতার ৭৩ তম দিবসে লাল কেল্লা থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, দশ সপ্তাহের সরকার এমন সব কাজ করেছে যা, বহুদিন ধরে  আটকে পড়েছিল। এইসব কাজের প্রতিটি, ভবিষ্যতের ভারত গড়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করবে বলে তিনি মনে করছেন। ২৮ মে, দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পদে শপথ নিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। সেই সময়ের পর নবনির্বাচিত সরকার কেন্দ্রের দশ সপ্তাহের সময়সীমা অতিক্রান্ত করে ফেলেছে। এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার কাশ্মীরের বুক থেকে প্রত্যাহার করেছে ৩৭০ ধারা এবং ৩৫এ ধারা। তৈরি করা হয়েছে জলশক্তি মন্ত্রক যা এর আগে কোনও সরকার তৈরি করেনি বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে ইউএপিএ বিলকে। আনা হয়েছে বেশকিছু সংশোধনী। প্রধানমন্ত্রী সেইসঙ্গে জানান, সরকার সময় নষ্ট না করেই কাজ করে চলেছে। বিবাহিত মুসলিম মহিলার দুর্ভোগ রুখতে আনা হয়েছে তিন তালাক বিল। সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, 'দেশের রাজনীতি করছি না, দেশের ভবিষ্যত গড়ছি'।


২) ভবিষ্যতের ভারত- এই প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী সাফ জানান ২০২২ সালের মধ্যে বিশ্বের সামনে এক মহাশক্তি হিসাবে ভারতকে নবরূপে প্রকাশ করাই হল তার মুল লক্ষ্য। আগামী  পাঁচ বছরে সরকার কীভাবে কাজ করবে তার সমস্ত রূপরেখা তৈরি হয়েছে। ধাপে ধাপে সেইসমস্ত রূপরেখাকে দেশের উন্নতির জন্য প্রয়োগ করা হবে। যারা রাজনীতির জন্য দেশের ভবিষ্যত নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চান তাঁদেরও সাবধানবাণী শুনিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন, মতবিরোধ হতেই পারে,কিন্তুকেবল রাজনীতির জন্য দেশের উন্নতিকে ব্যহত করার অধিকার কারওর নেই। 


৩)এক দেশ এক সংবিধান- এক দেশের মধ্যে অঞ্চল ভিত্তিক সাংবিধানিক সুযোদ-সুবিধা থাকতে পারে না, এতে শুধু সেইসব অঞ্চলই নয়, দেশের উন্নতিও থমকে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। ৭০ বছর ধরে জম্মুও কাশ্মীরে লাগু হয়েছে ৩৭০ ধারা। কিন্তু তাতে জম্মু ও কাশ্মীরের উন্নতি আমরা কতটা করতে পেরেছি-এই প্রশ্ন তিনি রেখেছেন দেশবাসীর সামনে। তাঁর মতে এক দেশ এক সংবিধান- দেশের সমস্ত অঞ্চলকে বেঁধে রাখার কাজটাই করবে  এমনটা নয়, সেইসঙ্গে একটা ইন্ট্রিগ্রেশনাল ডেভলপমেন্ট-কেও তরান্বিত করবে। 

৪) এক দেশ এক ভোট প্রক্রিয়া- ভবিষ্যতের ভারত গড়তে হলে দেশক একটিমাত্র ভোট প্রক্রিয়ায় সঙ্গে  যুক্ত হতে হবে। লালকেল্লা থেকে এদিন ফের একবার সেই বার্তা দিলেন প্রধানমন্র্রী নরেন্দ্র মোদী। এক দেশ এক ভোট প্রক্রিয়া- নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরব বিজেপি সরকার। নতুন ভারতের কথা বলতে গিয়ে মোদী এদিন মোক্ষম কৌশলে এক দেশ ও এক ভোটের প্রক্রিয়াকে প্রাসঙ্গিক করে তুললেন। 


৫)জল-জীবন মিশন- নতুন ভারত গড়তে হলে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছোতে হবে বিশুদ্ধ পানীয় জল। এটা মানুষের নুন্যতম চাহিদা। আজও দেশের অর্ধেক মানুষ বিশুদ্ধ পানীয় জল পান না। তার জন্য মোদীর লক্ষ্য আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে জল জীবন মিশন প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করা। কেন্দ্র ও রাজ্য এই প্রকল্পে এক যোগে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর জন্য ৩ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। জল সঞ্চয় থেকে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, জল বাঁচানো অভিযান এবং জলের অপচয় রোধের শিক্ষা অভিযান-সহ একাধিক কর্মকাণ্ডকে যুক্ত করা হয়েছে এই প্রকল্পের সঙ্গে। তিনি জানান ৭০ বছরে জল নিয়ে দেশে যা কাজ হয়েছে তার থেকেও অন্তত চারগুণ বেশি কাজ আগামী পাঁচ বছরে করতে হবে। 

৬) জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ- চিনের দেখা দেখি ভারতে এক সময়ে শুরু হয়েছিল জনসংখ্যা নিয়ত্রণ প্রোগ্রাম, তবে চিন যে কঠোর পদ্ধতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের কাজ করে চলেছে, ভারত কিন্তু সেভাবে এই প্রোগ্রামকে কার্যকর করে উঠতে পারেনি। ভারতের উন্নতির পথে এখন এক বড় মাথা ব্যথা ১৩০ কোটি জনসংখ্যা। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের জনসংখ্যা ১৫০ কোটিতে পৌঁছে যাবে। এদিন লালকেল্লা থেকে মোদী জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ডাক দেন। তিনি বলেন শিশুর জন্ম দেওয়ার আগে প্রত্যেকে ভাবুন, যে সেই শিশুকে স্বাবলম্বী করার মতো উপাদান আপনার কাছে রয়েছে কিনা , শুধু সমাজ বা সরকারের ভরসায় শিশুর ভবিষ্যতকে ছেড়ে দিলে হবে না।

৭) দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই- সরকার কঠোরভাবে দুর্নীতি রোধে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এদিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে একথা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, এই সরকার নতুন করে ক্ষমতায় এসে ইতিমধ্যেই দুর্নীতির দায়ে বেশকিছু অফিসারকে স্বেচ্ছাবসর নিতে বাধ্য করেছে । দুর্নীতি রোধে সরকার যেমন ব্যবস্থা নেবে তেমনি সমাজকেও এই নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। সরকার একা কেবল দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়বে না সমাজকেও লড়তে হবে। 

৮) ইনক্রিমেন্টাল প্রোগ্রেস- প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশকে দ্রুত উন্নতির পথে যেতে হবে। উন্নতির জন্য আর অপেক্ষা করে থাকা সম্ভব নয়। এবার হাই জাম্প দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে। 

৯) আধুনিক পরিকাঠামো-ভারতকে নতুন রূপে গড়তে আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে, সেজন্য ১০০ লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। 

১০) আকাঙ্খার ভারত- প্রধানমন্ত্রীর মতে, ভারতবাসীর আকাঙ্খা এখন অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন কোনও নাগরিক শুধুমাত্র অত্যধুনিক বাস স্ট্যান্ড ও রেল স্টেশন নিয়ে খুশি নন, তাঁরা দাবি করেন বন্দে মাতরম এক্সপ্রেস চড়ার সুযোগ কবে পাবেন, রাস্তা যদি হয়ে থাকে, তা চার লেন না ছয় লেনের হবে। এমন প্রশ্ন এখন করে থাকেন নাগরিকরা। এর দ্বারা প্রমাণিত নুন্যতম চাহিদার গণ্ডি পেরিয়ে অত্যাধুনিক পরিষেবার লাভ ওঠানোর পক্ষে সওয়াল করছেন।

১১) ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতি- ২০১৫ সালের মধ্যে ভারতকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছতে হবে, এর জন্য বেশকিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার। গত ৭০ বছরে ভারত ২ ট্রিলায়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছেছিল, এর ফলে পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছেছে। এই মুহূর্তে ভারত ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি রয়েছে। 

১২) সংস্কার- নবরূপে ভারত গড়তে সংস্কার হওয়াটা জরুরি। এর জন্য আইবিসি-তে যেমন সংস্কার আনা হয়েছে তেমননি জিএসটি সংস্কার সাধন হয়েছে এইসবই সমাজ সংস্কারের উন্নতিতে ভ্যালু অ্যাডিশনের কাজ করছে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী। 

১৩) সিডিএস- নবরূপের ভারতে মোদীর আরও এক ঘোষণা চিফ ডিফেন্স স্টাফ, যিনি তিন বাহিনীর মাথায় প্রধান হিসাবে কাজ করবে। 

১৪) সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই- সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারত যে লড়াই করবে এদিন তারও বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী, সন্ত্রাসকে এদিন দেশের পাশাপাশি বিশ্বের সমস্যাও বলে তুলে ধরেন তিনি। প্রতিবেশি দেশ , যেমন বাংলাদে শ্রীলঙ্কা,আফগানিস্তান যেভাবে সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে, তা নিয়ে সকলের সচেতন হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন। সন্ত্রাস রোধে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলেও জানান তিনি। 

বিস্তারিত আসছে...