শনিবার, হিন্দি দিবসের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বড় বিতর্ক উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন বিভিন্ন ভাষার বৈচিত্রেই ভারত গড়ে উঠেছে। কিন্তু যদি কোনও একটি ভাষা ভারতের ঐক্যকে ধরে রাখতে পারে, তা হল হিন্দি। তাঁর এই এক দেশ-এক ভাষার ফর্মুলা নিয়েই আপাতত সারা দেশে তর্ক-বিতর্ক চলছে।

দক্ষিণের রাজ্যগুলি থেকে অমিতের এই মন্তব্য নিয়ে প্রবল প্রতিবাদ উঠেছে। চাপে পড়ে বিজেপি এখন বলছে অমিত শাহ-এর মন্তব্য মহাত্মা গান্ধীর ভাবনার প্রতিফলন। তবে, তাঁরা সম্ভবত জানেন না, বা অবজ্ঞা করে যাচ্ছেন আরেক দেশনায়ক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরামর্শকে।

১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ আমেরিকা সফরে গিয়ে এক সভায় ভারতের বৈচিত্র নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। বিংশ শতাব্দীর শুরুতেই প্রথমবার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মের মানুষের একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটেছিল। স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতির মধ্যে ঠোকাঠুকি হচ্ছিল। সেই সময়ই কবিগুরুকে মার্কিনীরা প্রশ্ন করেছিল কীভাবে এই অবস্থাটার মোকাবিলা করা যাবে?

রবীন্দ্রনাথ তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, সেই সময়ের পৃথিবীর অবস্থা অনেকটা ভারতের মতো। ভারতে যুগে যুগে বিভিন্ন জাতি এসেছে। তারা সঙ্গে নিয়ে এসেছে, তাদের ভাষা, খাদ্য সংস্কৃতি, ধর্ম। একেকটি জাতি এসেছে, এবং নিজেদের বৈশিষ্ট্য নিয়েই মিশে গিয়েছে ভারতের সঙ্গে। অনেকটা আমেরিকায় যেমন বিভিন্ন দেশের লোক এসে তাদের নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন সেই ভাবেই।

রবীন্দ্রনাথ আরও বলেছিলেন একে অন্যের ভাষা, সংস্কৃতি জানার মধ্য দিয়ে, তাকে শ্রদ্ধার মধ্য দিয়েই ভারতাত্মা গড়ে উঠেছে। ভাষা-সংস্কৃতিকে একমুখি করে তোলার চেষ্টা করলে এই ঐক্য ভেঙে যাবে।

বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে শক্তি বাড়াতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু সেই সময়ই বাংলার প্রাণ পুরুষের পরামর্শকে এড়িয়ে যাওয়াটা কি খুব বুদ্ধিমানের কাজ হচ্ছে? এর উত্তর সময় দেবে।