ফের কাশ্মীর উপত্যকায় জঙ্গি নিধনে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। রবিবার শ্রীনগরের রঙ্গ্রেথ এলাকায় গুলিযুদ্ধের হিজবুল মুহাজিদিনের প্রধান কমান্ডার ডাক্তার সইফুল্লা বা সইফুল্লা মির নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে  জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এদিন সকালে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল। তাতে এক জঙ্গি জীবিত অবস্থাতেও ধরা পড়েছে।

কাশ্মীর রেঞ্জের পুলিশের ডিজি বিজয় কুমার বলেছেন, দক্ষিণ কাশ্মীরে হামলা চালাতে আসা কিছু জঙ্গি শ্রীনগরের রংরেথ অঞ্চলে আত্মগোপন করেছে বলে খবর ছিল তাঁদের কাছে। এরপরই রবিবার ভোরে ওই এলাকায় জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, এবং সিআরপিএফ-র জওয়ানরা যৌথ অভিযান চালিয়েছিল। পরে গুলিযুদ্ধ চলাকালীন অভিযানে যোগ দিয়েছিল সেনাবাহিনীও।

রংরেথ এলাকায় চলছে অভিযান

বিজয় কুমার আরও জানিয়েছেন গুলিযুদ্ধে এক জঙ্গিরা মৃত্যু হয়েছিল এবং অপর একজন জীবিত অবস্থায় বন্দী হয়েছিল যৌথ বাহিনীর হাতে। পরে ওই নিহত জঙ্গিই কুখ্যাত জঙ্গি হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান কমান্ডার ডাক্তার সইফুল্লা বলে জানা যায়। তবে সইপুল্লার দেহ এখনও তার পরিবারের সদস্যরা সনাক্ত করেনি।

এই বছর শুরু থেকেই জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় জহ্গি দলগুলির প্রধান কমান্ডারদের নিশানা করছে বাহিনী। লস্কর, হিজবুল, আনসার গাজওয়াত-এর একের পর এক কমান্ডারকে খতম করে জঙ্গি কার্যকলাপে লাগাম টেনেছে নিরাপত্তা বাহিনী। গত মে মাসে পুলওয়ামায় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছিল হিজবুল্লা প্রধান রিয়াজ নাইকু। সেই সময় সেই এই জঙ্গি গোষ্ঠীর অপারেশনাল কমান্ডার ছিল। তার মৃত্য়ুর পর ডাক্তার সইফুল্লাকে হিজবুল্লার নতুন প্রধান মনোনীত করা হয়েছিল। অর্থাৎ এই নিয়ে চলতি বছরেই হিজবুল্লার দুই কমান্ডারকে খতম করল নিরাপত্তা বাহিনী।

মে মাসে নিহত হয়েছিল হিজবুল কমান্ডার রিয়াজ নাইকু

সইফুল্লা মির ওরফে গাজি হায়দার ওরফে ডাক্তার সাহাব ২০১৪ সালের অক্টোবরে হিজবুল মুজাহিদিনে যোগ দিয়েছিল। পুলওয়ামা জেলার মালংপুরার বাসিন্দা সে। রিয়াজ নাইকুর হাত ধরেই হিজবুল্লায় যোদ দিয়েছিল সে। জঙ্গি দলে তার নতুন নাম হয়েছিল গাজি হায়দার, যদিও ডাক্তার সাব নামেই জঙ্গিদের মধ্যে কি নিরাপত্তা রক্ষীদের মধ্যে বেশি পরিচিত ছিল সে। নিরাপত্তা বাহিনীর কাশ্মীরের টপ টেন মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসবাদীদের সাম্প্রতিক তালিকায় একেবারে শীর্ষে ছিল সইফুল্লা। উপত্যকার জঙ্গি হামলার বেশ কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত ছিল সে। দিন দুই আগে তিন বিজেপি কর্মীর হত্যার পিছনেও তারই হাত ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।