বলিউডের বিখ্যাত ছবি 'হম দিল দে চুকে সনম'-এ স্ত্রীকে তাঁর পুরনো প্রেমিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন ছবির অন্যতম নায়ক অজয় দেবগণ। কিন্তু ছবির গল্পের টুইস্টে শেষ মুহূর্তে স্বামীর কাছেই থেকে গিয়েছিলেন স্ত্রী ঐশ্বর্য। খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল প্রেমিকের ভূমিকায় অভিনয় করা সলমনকে। 

বাস্তবটা অবশ্য সিনেমার থেকেও কঠিন। তাই শেষ পর্যন্ত স্বামীর প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গেই ঘর বাঁধার সিদ্ধান্ত নিলেন মধ্যপ্রদেশের ভোপালের এক গৃহবধূ। একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, স্ত্রীর খুশির জন্য প্রেমিকের কাছে তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছেন স্বামীই!

জানা গিয়েছে, সম্প্রতি ভোপালের একটি পারবারিক আদালতের দ্বারস্থ হন এক ব্যক্তি। বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করে তিনি জানান, সাত বছর আগেকার প্রেমিকের সঙ্গে স্ত্রীকে মিলিয়ে দিতেই ডিভোর্স চাইছেন তিনি। কারণ তিনি চান,তাঁর স্ত্রী সুখে থাকুন। স্ত্রী যদি তাঁর পুরনো প্রেমিকের কাছেই খুশি থাকেন, তাতেও আপত্তি নেই তাঁর। 

পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ওই ব্যক্তি ভোপালের কোরা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্ত্রী পেশায় একজন ফ্যাশন ডিজাইনার। ওই দম্পতির সাত বছর আগে বিয়ে হয়। তাঁদের দু'টি সন্তানও রয়েছে। এমনিতে ওই দম্পতির সংসারে অশান্তি ছিল না। কিন্তু বছর কয়েক আগে নিজের পুরনো প্রেমিকের খোঁজ পান ওই গৃহবধূ। বিয়ের আগে যাঁর সঙ্গে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। কিন্তু বাবার আপত্তিতেই ওই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় তাঁর।

পুরনো প্রেমিকের খোঁজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই গৃহবধূ জানতে পারেন, তাঁকে না পেয়ে অন্য কাউকে বিয়েও করেননি ওই প্রেমিক। এর পরই ধীরে ধীরে ফের ওই প্রেমিকের প্রতি টান তৈরি হয় তাঁর। 

পুরনো প্রেমিকের প্রতি স্ত্রীর এই মনোভাব জানার পরেই তাঁর সঙ্গে মাঝেমধ্যেই অশান্তি শুরু হয় স্বামীর। শেষ পর্যন্ত সংসার ছেড়ে প্রেমিকের কাছেই ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ওই গৃহবধূ। এর পরেই বিষয়টি আদালতে গড়ায়। পারিবারিক আদালত ওই দম্পতিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দেখতে বললেও কাজ হয়নি। বাস্তবটা মেনে নিয়ে সম্পর্ক থেকে সরে আসতে চান স্বামী। কারণ তিনি চাননি তাঁদের দাম্পত্য কলহের প্রভাব দুই সন্তানের উপরে পড়ুক। আর পুরনো প্রেমিকের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদললাননি স্ত্রীও। ফলে ওই দম্পতির বিচ্ছেদ এখন সময়ের অপেক্ষা। 

স্ত্রীকে ছাড়লেও স্বামী অবশ্য দুই সন্তানকে নিজের হেফাজতে রাখতে চেয়েছেন। তাতে সম্মতি দিয়েছেন স্ত্রীও। স্বামী অবশ্য জানিয়েছেন, যখনই চাইবেন স্ত্রী এসে সন্তানদের দেখে যেতে পারেন।