শনিবার বালাকোট বিমান হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মধ্য ভারতের একটি প্রধান বায়ুসেনা ঘাঁটি মাল্টি-এয়ারক্র্যাফ্ট ফর্মেশনে একটি মিরাজ ২০০০ বিমান চালালেন ভারতের বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আরকেএস ভাদৌরিয়া। ২০১৯ সালে পুলওয়ামায় সন্ত্রাসী হামলার জবাবে অভূতপূর্বভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় বাহিনী হামলা চালিয়েছিল পাকিস্তানের বালাকোটে অবস্থিত জইশ-ই-মহম্মদ (JEM) জঙ্গি গোষ্ঠী।

এদিন এয়ার চিফ মার্শাল ভাদৌরিয়া যে মিরাজ ২০০০ বিমানটি চালান, সেটি বালাকোটের হামলায় ব্যবহার করা হয়েছিল। বায়ুসেনার এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার জানিয়েছেন, বায়ুসেনা প্রধানের সঙ্গে আইএএফ প্রধান স্কোয়াড্রনের পাইলটরা এদিন বিমান ওড়ান। বায়ুসেনার এই চালকরাই বালাকোট বিমান হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে পাঁচটি বিমানের এই ফর্মেশনে অংশ নিয়েছিল মিরাজ ২০০০ এবং সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান।

বায়ুসেনার অধ্যয়ন কেন্দ্রের ডিরেক্টর, অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল অনিল চোপড়া জানিয়েছেন, বাহিনীর প্রধান যখন বিমান ওড়ান, তখন গোটা বাহিনী এই বার্তাই পায় যে আমাদের কমান্ডাররা একেবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। সেইসঙ্গে বহির্বিশ্বকেও এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে আইএএফ তার অত্যাধুনিক বহরগুলির পেশাদারিত্ব এবং যুদ্ধ প্রশিক্ষণ অবস্থা নিয়ে গর্বিত।

মঙ্গলবারই আইএএফ আন্তঃসীমান্ত বিমান হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে, রাজস্থানে একটি ডামি টার্গেটের বিরুদ্ধে মিরাজ ২০০০ থেকে হামলা চালানোর একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এই স্ট্রাইক স্কোয়াড্রনের সদস্যরাই বালাকোটের অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানানো হয়েছিল আইএএফ-এর পক্ষ থেকে। অনুশীলনই ছিল এর লক্ষ্য। যুদ্ধবিমানগুলি থেকে ইসরাইলে তৈরি স্পাইস ২০০০ বোমা ফেলা হয়েছিল। অনুশীলনের পাশাপাশি এই মহড়া থেকে বহির্বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। কর্তাদের দাবি, যুদ্ধবাজরা বুঝে গিয়েছে আইএএফের তরোয়াল ফলা কতটা তীক্ষ্ণ।