শুক্রবারই, নির্বাচন কমিশন ৫ রাজ্যের ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে। আর শনিবার অসমের ভোট প্রচার শুরু করে দিলেন নরেন্দ্র মোদী। এদিন তিনি টুইট করে জন্মদিবসের শ্রদ্ধা জানালেন বীর চিলারায়-কে।

শনিবার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে জানান, বীর চিলারায় বীরত্ব ও দেশপ্রেমের সমার্থক। তিনি ছিলেন এক অসামান্য যোদ্ধা। মানুষের জন্য লড়াই করেছিলেন। চিলারায়-এর সাহসিকতা আগামী প্রজন্মকে প্রেরণা জোগাবে বলে জানান নরেন্দ্র মোদী। ষোড়শ শতকের এই অহমিয়া নায়ককে স্মরণ করার মাধ্যমে অসমে ভোটের প্রচার শুরু করে দিলেন নরেন্দ্র মোদী, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কে ছিলেন এই বীর চিলারায়? বীর চিলারায়-এর আসল নাম শুক্লধ্বজ। ষোড়শ শতকে কামাত বংশের রাজা নর নারায়ণের ভাই তথা সেনাপতি ছিলেন শুক্লধ্বজ ওরফে বীর চিলারায়। শিবাজিরও আগে তিনি গেরিলা যুদ্ধে পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন। চিলা অর্থাৎ ঘুড়ির মতো তীব্র গতিতে তিনি সেনা পরিচালনা করতে পারতেন বলেই তার নাম হয়েছিল চিলারায়।

সেনাপতি হিসাবে নর নারায়ণের সেনা নিয়ে চিলারায়, মণিপুর, খাসি, জয়ন্তিয়া, ত্রিপুরা, সিলেট-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্য জয় করেছিল। আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করলে চিলারায়-এর সেনা অত্যন্ত কঠোর ভূমিকা নিত। তবে, তারা কখনই নিরস্ত্রদের উপর হামলা করেনি, বলে কথিত আছে। এমনকী, আত্মসমর্পণকারী রাজাদেরও উপযুক্ত শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হতো। অধিকৃত রাজ্যগুলি চিলারায় ও নর নারায়ণ কখনই অধিগ্রহণ করেনি বা সেই রাজ্যের জনগণদের নিপীড়ন করেনি।

পরিবর্তে, তারা শুধুমাত্র পরাজিত রাজাদের কাছ থেকে শ্রদ্ধা আদায় করত বলে কথিত। এমনকী শত্রুপক্ষের বন্দীদের সঙ্গেও সদয় আচরণ করা হতো। তবে বাংলা দখল করতে যেতেই আফগান সুলতান সুলায়মান খান কররানি হাতে বন্দী হয়েছিলেন চিলারায়। নর নারায়ণায়ণ রাজধানীতে পালাতে পারলেও, এরপর থেকে তার রাজ্যের অধিকাংশই দখল করেছিল আফগানরা।
চিলারায়-এর মৃত্যু হয়েছিল স্মল পকস-এর কারণে।