চলতি মাসের শুরুতে গালওয়ান উপত্যকায় রক্তাক্ত সংঘর্ষের পর, মঙ্গলবার ফের কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে বসতে চলেছে ভারত ও চিন। পূর্ব লাদাখের সেই সংঘর্ষে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্তত ২০ জন সদস্য শহিদ হন। তারপর দুই দেশের মধ্যে ফের আলোচনা শুরু হতে চলেছে। এই নিয়ে তৃতীয় দফায় সেনা কমান্ডার পর্যায়ের আলোচনা হবে দুই দেশের মধ্যে।

লাদাখে ভারতীয় অংশে চিন সেনা ঢুকে পড়েছিল কিনা, তাই নিয়ে দেশে বিতর্ক অব্যাহত। তবে মঙ্গলবার নিশ্চিতভাবেই ভারতে পা পড়বে চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মির। কারণ গত দুইবার এই ধরণের বৈঠক চিনা অংশের সেনাঘাঁটি মল্দোয় অনুষ্ঠিত হলেও মঙ্গলবারের বৈঠকটি হবে ভারতীয় অংশের 'চুশুল' উপত্যকায়। চিন সেনার প্রতিনিধিরা আসবেন ভারতীয় অংশে। মলদো উপত্যকার ঠিক বিপরীতে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থিত এই চুশুল। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের সময় এই উপত্যকাতেই চিন সেনার মুখোমুখি হয়েছিল ভারতীয় সেনা।

সূত্রের খবর, এই বৈঠকে এর আগেই দুই পক্ষ থেকে সেনা প্রত্যাহারের যে যে প্রস্তাব গৃহিত হয়েছিল, সেই প্রক্রিয়াকেই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এই বৈঠকে চলমান স্থবিরতার সমস্ত বিতর্কিত ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হবে। গত ৬ জুন প্রথম বৈঠকে উভয়পক্ষই একাধিক স্থানে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হয়েছিল। ভারতের পক্ষ থেকে চিনকে সাফ জানানো হয়েছিল, মে মাসের আগে পূর্বলাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর তাদের যে সামরিক অবস্থান ছিল, সেই অবস্থানেই ফিরে যেতে।

গত প্রায় এক মাসের বেশি সময় ধরে দুই দেশ চলমান সীমান্ত উত্তেজনা হ্রাস করার উদ্দেশ্যে আলোচনা চালাচ্ছে। কিন্তু, চিন আলোচনার টেবিলে যা বলছে, কার্যক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টো পদক্ষেপ নিচ্ছে। ১৫ জুন পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষ তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। সেই বিষয় নিয়েও চিনের উপর চাপ বাড়াতে পারে ভারত। টানটান উত্তেজনার মধ্যে সীমান্ত এলাকায় এই সামরিক পর্যায়ের বৈঠকের দিকে এখন তাকিয়ে আছে দুই দেশই। উত্তেজনার আঁচ কি কমবে, নাকি ফের এই বৈঠকের পর চিন নতুন ছলা-কলা শুরু করবে, সেটাই দেখার।