রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পরিবহনের জন্য আসছে নতুনভাবে সুরক্ষিত দুটি বিশেষ বোয়িং বিমান। এই দুই ভিভিআইপি বিমানে থাকছে এক বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা বিমানগুলিকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা করতে পারবে। আর এই সুরক্ষা স্যুট কেনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১২০০ কোটি টাকার চুক্তি করল ভারত। সরকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, দুটি বোয়িং-৭৭৭ বিমানের সম্প্রসারিত সংস্করণ হবে এই দুটি। এদের কোডনেম দেওয়া হবে 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'।

ভারতীয় এই দুই বিমানের জন্য সুরক্ষা স্যুটগুলির মধ্যে খাকছে ইনফ্রারেড এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার কাউন্টারমেজার স্যুট, কাউন্টারমেজার ডিসপেনসিং সিস্টেম এবং মিসাইল ওয়ার্নিং সেন্সর। আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে এই প্লেন দুটি ভারতে এসে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনাবাহিনীর আধিকারিকরা বোয়িং সংস্থার বিভিন্ন কেন্দ্রে বেশ কয়েকবার সফর করেছেন। সেখানে তারা নিয়মিত এই বিমানের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং এ বিষয়ক সব অগ্রগতির খোঁজ খবর নিয়েছেন।

এই বিমানদুটির মালিকানা থাকবে ভারতীয় বায়ুসেনাবাহিনীর হাতে। ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন পরিশীলিত সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি এবং ভারতীয় বায়ুসেনার পরিচালনার কারণে এই বিমানগুলিকে সামরিক বিমান-এর শ্রেণি তে ফেলা হবে। এতদিন ভরতের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বিমানগুলির মালিকানা ছিল এয়ার ইন্ডিয়ার হাতে। মোট চারটি বোয়িং ৭৪৮ মডেলের বিমান ব্যবহার করত তারা।

ভারতকে এই অত্যাধুনিক স্যুট বিক্রির বিষয়ে সম্মতি রয়েছে মার্কিন প্রশাসনের। তাদের প্রতিরক্ষা সুরক্ষা সহযোগিতা সংস্থা বলেছে, এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চুক্তি বিমানে ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির পরিবেশে ভারতের সামর্থ্যকে আরও দৃঢ় করতে সহায়তা করবে। দিন কয়েক আগেই ভারতে এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। দুই দিনের সেই সফরের সময়, আমেরিকার কাছ থেকে ভারত নৌবাহিনীর জন্য ২৪টি এমএইচ ৬০ রোমিও মাল্ট্রোল হেলিকপ্টার এবং সেনাবাহিনীর জন্য ছয়টি নতুন অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার চুক্তি করেছিল।