চাইলেই পাওয়া যাবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি করোনা টিকা কোভিশিল্ডের ৪ থেকে ৫ কোটি ডোজ ভারতে বিতরণের জন্য একেবারে প্রস্তুত। এখন অপেক্ষা শুধুমাত্র ভারত সরকারের অনুমোদনের। সোমবার (২৮ ডিসেম্বর), এমনটাই জানালেন এই টিকার উৎপাদনের বরাত পাওয়া সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার প্রধান কর্যনির্বাহী কর্তা, আদর পুনাওয়ালা।

উল্লেখ্য, অক্সফোর্ডের তৈরি এই ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যেই সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এসআইআই)-র সঙ্গে ভারত সরকারের একটি প্রাক-চুক্তি রয়েছে। চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারের আগেই ব্রিটেনে এই টিকা অনুমোদন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই ভারতেও জরুরি ভিত্তিতে এই টিকাকে অনুমোদন দেওয়া হবে এবং কোভিডে মৃত্যুর সর্বাধিক ঝুঁকি আছে এমন ব্যক্তিদের (বয়স্ক, কোমরবিডি যুক্ত ব্যক্তিবর্গ ও ফ্রন্টলাইনাররা) টিকাকরণের কাজ শুরু করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এ সম্পর্কে, এদিন সেরাম প্রধান পুনাওয়ালা বলেছেন, তাঁদের কাছে কোভিশিল্ডের ৪০ থেকে ৫০ মিলিয়ন অর্থাৎ ৪ থেকে ৫ কোটি ডোজ তৈরি রয়েছে। অনুমোদনের পরে, কতগুলি ডোজ সংগ্রহ করবে এবং কত দ্রুত তা সংগ্রহ করে, সেই বিষয়ে ভারত সরকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও জানান, ভারত কোভ্যাক্স-এর অঙ্গ। তাই ভারতে তাঁদের সংস্থা যতগুলি ডোজ উৎপাদন করবেন, তার ৫০ শতাংশ পবে ভারত। আর বাকিটা যাবে অন্যান্য কোভ্যার্স দেশে। ভারতের বিশাল জনসংখ্যার কথা মাথায় রেখে তাঁরা প্রথম ৫ কোটি ডোজ ভারতকেই দেবেন বলেও জানিয়েছেন। ২০২১ সালের জুলাই মাসের মধ্যে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি ডোজ কোভ্যাক্সিন উত্পাদন করবে সেরাম।

সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া (এসআইআই)-ই প্রথম ভারতে জরুরিভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য, মেড ইন ইন্ডিয়া কোভিড -১৯ ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড-এর আবেদন করেছে। আদর পুনাওয়ালা একটি টুইট করে জানিয়েছেন, ২০২০ সালের আগেই প্রথম মেড ইন-ইন্ডিয়া ভ্যাকসিন ভারতীয়দের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমতি চাইবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সেরাম ইনস্টিটিউট ইন্ডিয়া। তারা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। ভারত সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে 'অমূল্য সহায়তা'র জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।