জওয়ান, সেনাদের স্মৃতিতে মোড়া, হাজার হাজার প্রতিবাদের সাক্ষী থাকা ইন্ডিয়া গেট দিল্লির প্রাণকেন্দ্র। ভারতের এই যুদ্ধ-স্মৃতি সৌধ, রাজধানী নতুন দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। লাল ও সাদা বেলেপাথর ও গ্রানাইট পাথরে তৈরি এই সৌধ ৯০,০০০ ভারতীয় সেনা জওয়ানদের স্মৃতিতে নির্মাণ করা হয়। নয়া দিল্লির প্রধান এই প্রতীকের রূপ এক এক সময় এক এক রকমের। প্রথা মেনেই স্বাধীনতা দিবসে তা সেজে উঠল জাতীয় পতাকার তিন রঙে। 

ছবি সৌজন্যঃ ডক্টর ইন্দ্রনীল সাহা

এই সৌধ নির্মান করা হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও তৃতীয় ইঙ্গ আফগান যুদ্ধে নিহত হয়েছিলেন প্রায় ৯০ হাজার ভারতীয় সেনা। তাঁদের স্মৃতির উদ্দেশেই ভারতীয় যুদ্ধ স্মৃতি সৌধ হিসেবে নির্মাণ করা হয়ে এই স্থাপত্য।  ১৯১৪ সালের জুলাই থেকে ১৯১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চলা ‘প্রথম বিশ্বযুদ্ধ’ এবং ১৯১৯ সালের মে থেকে অগাস্ট পর্যন্ত চলা ‘তৃতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধে’ নিহত ভারতীয় সৈন্যদের স্মরণে ইন্ডিয়া গেট স্মৃতিসৌধটি নির্মিত।

ছবি সৌজন্যঃ ডক্টর ইন্দ্রনীল সাহা

সৌধটি নির্মিত করা হয় ব্রিটিশ আমলে। ইন্ডিয়া গেটটি স্থাপন করা হয়েছিল ১৯৩১ সালে। প্যারিসের আর্ক দে ত্রিম্ফের আদলেই তৈরি করা হয় এই স্মৃতি সৌধ। তবে ১৯৩১ সালে এই সৌধ স্থাপনের পর নাম রাখা হয়েছিল অল ইন্ডিয়া ওয়ার মনুমেন্ট। এর নকশা তৈরি করেছিলেন স্যার এডউইন লুটিয়েনস। এই গেটের চূড়ায় বড় বড় অক্ষরে লেখা ভারত, ইন্ডিয়া। খিলানের গায়ে ১৩ হাজারেরও বেশি ভারতীয় সেনার নাম খোদাই করা আছে। 

ছবি সৌজন্যঃ ডক্টর ইন্দ্রনীল সাহা
 
দিল্লিতে অবস্থিত এই স্মৃতি সৌধে আগে পঞ্চম জর্জের একটি মূর্তি ছিল। তবে সেই স্থান এখন ফাঁকাই রয়েছে। সেই মূর্তি এখন রাখা রয়েছে দিল্লির কনোনেশন পার্কে। ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের পর এখানে অমর জওয়ান জ্যোতি স্থাপন করা হয়। কেবলমাত্র ইতিহাস ও ঐতিহ্য নয়, দেশের রাজধানীর পর্যটনকেও তুলেধরেছে এই স্থাপত্য।