মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ভারতে রান্নার গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করল কেন্দ্রীয় সরকার। রান্নার জ্বালানির ঘাটতি রোধে কেন্দ্রীয় সরকার এলপিজি উৎপাদন সর্বাধিক করার জন্য রিফাইনারিগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ভারতে রান্নার গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করল কেন্দ্রীয় সরকার। রান্নার জ্বালানির ঘাটতি রোধে কেন্দ্রীয় সরকার এলপিজি উৎপাদন সর্বাধিক করার জন্য রিফাইনারিগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক ভারত গত বছর ৩৩.১৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন রান্নার গ্যাস ব্যবহার করেছে, যা প্রোপেন এবং বিউটেনের মিশ্রণ। ভারত মোট এলপিজি ব্যবহারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আমদানি করে, যার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে প্রায় ৮৫-৯০%।
বৃহস্পতিবার রাতে জারি করা আদেশে দেখা গেছে, সমস্ত তেল পরিশোধকদের নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে যে তাদের কাছে থাকা প্রোপেন এবং বিউটেন এলপিজি উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনকে রান্নার গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে বলেছে। সরকারি তথ্য অনুসারে, দেশে প্রায় ৩৩২ মিলিয়ন এলপিজি গ্রাহক রয়েছে।
এলপিজি উৎপাদনের জন্য প্রোপেন এবং বিউটেনের বাধ্যতামূলক ব্যবহার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃক পেট্রোল মিশ্রণকারী উপাদান অ্যালকাইলেটের উৎপাদন কমিয়ে দেবে। এলএসইজি তথ্য অনুসারে, রিলায়েন্স গত বছর প্রতি মাসে প্রায় চারটি কার্গো অ্যালকাইলেট রফতানি করেছিল। সরকার পরিশোধকদের পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনের জন্য প্রোপেন এবং বিউটেন না পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছে। এলপিজি উৎপাদনের জন্য প্রোপেন এবং বিউটেন ব্যবহার করলে পোলপ্রোপিলিন এবং অ্যালকাইলেটের মতো পণ্য তৈরিকারী পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এলপিজির তুলনায় এগুলোর বেশি দামে বিক্রি হয়।
কেপলারের তথ্য অনুসারে, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক এবং এই ক্রয়ের ৯০ শতাংশেরও বেশি মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালীর কাছে আটকে থাকা এবং মার্চ মাসে খালাসের জন্য নির্ধারিত এলপিজি জাহাজগুলি যদি কয়েক দিনের মধ্যে যাত্রা শুরু না করে, তবে বিতরণ সমস্যা দ্রুত দেখা দিতে পারে। অপরিশোধিত তেল এবং তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) তুলনায় এলপিজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতের হাতে বেশি অপনশন নেই। ভারত প্রচুর পরিমাণে অশোধিত তেল মজুত করে। তবে সেই পরিমাণে এলপিজি মজুত (India's LPG Stock) করে না। যার ফলে ভারতের জন্য সমস্যা সত্যিই চিন্তার। সরকারি কর্তারা বলছেন যে বর্তমানে মজুত থাকা এলপিজি ৩০ দিন চলতে পারে। মার্চ মাসে নতুন করে চালান না আসলে, একসঙ্গে অনেক রিফিল বুকিং হলে এই মজুত তার আগেই শেষ হয়ে যাবে। কারণ, পরিস্থিতি বুঝেই গ্রাহকরা অতিরিক্ত সিলিন্ডার সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন।
