বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার ছাড়ালেও ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বেড়েছে মাত্র ৪.৫ শতাংশেরও কম। মূলত সরকারি হস্তক্ষেপ এবং আবগারি শুল্ক কমানোর ফলেই এই দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেকটাই কম।

বিশ্বজুড়ে দাম বাড়লেও ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দর অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হরমুজ প্রণালীর সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের যোগানে বড়সড় ধাক্কা লাগে। এর জেরে প্রতিবেশী দেশসহ বিশ্বের একাধিক দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম হু হু করে বাড়লেও, ভারতে সেই তুলনায় দাম বেড়েছে সামান্যই।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এই সংকটের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে দাম কিছুটা কমে ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের আশেপাশে থাকলেও, বিশ্বজুড়ে এনার্জি সাপ্লাই চেইন এবং তেলের ভান্ডারে ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।

GlobalPetrolPrices-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ভারতে পেট্রোলের দাম ৪.২ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ৪.৪ শতাংশ বেড়েছে। অথচ এই একই সময়ে মায়ানমারে পেট্রোলের দাম ৮৯.৭ শতাংশ এবং ডিজেলের দাম ১১২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন এবং ইউরোপের একাধিক দেশেও জ্বালানির দাম বিপুল হারে বেড়েছে।

দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা

বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার বোঝা সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ভারত সরকার ২০২১ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে একাধিকবার আবগারি শুল্ক (excise duty) কমিয়ে এবং খুচরো দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

সরকারি তথ্য বলছে, ২০২১ সালের নভেম্বর এবং ২০২২ সালের মে মাসে আবগারি শুল্ক কমানো হয়। এরপর ২০২৪ সালের মার্চে খুচরো দাম কমানো হয়, এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে আবার আবগারি শুল্ক কমানো হয়। সর্বশেষ, ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ স্পেশাল অ্যাডিশনাল এক্সাইজ ডিউটি (SAED) কমানোর ঘোষণা করা হয়। এই ঘোষণার ফলে পেট্রোলের ওপর আবগারি শুল্ক কমে লিটার প্রতি ৩ টাকা এবং ডিজেলের ওপর শূন্য হয়ে যায়।

হরমুজ সংকটের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার একটা বড় অংশ সরকারি রাজস্ব এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলো নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়। শুধুমাত্র ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শুল্ক কমানোর ফলে সরকারি কোষাগারে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার প্রভাব পড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০০৫ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে UPA সরকারের আমলে তেল বিপণন সংস্থাগুলোকে প্রায় ১.৩৪ লক্ষ কোটি টাকার অয়েল বন্ড দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে গত কয়েক বছরে সুদসহ ১.৩০ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূলধন শোধ করা হয়েছে।

রাজ্যে রাজ্যে দামে ফারাক কেন?

পশ্চিমবঙ্গের মতোই ভারতেও বিভিন্ন রাজ্যে ভ্যাট (VAT) বা ভ্যালু অ্যাডেড ট্যাক্সের হার আলাদা। এই কারণেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে ফারাক দেখা যায়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং কেরালায় ভ্যাটের হার বেশি হওয়ায় জ্বালানির দামও বেশি। অন্যদিকে, গুজরাট, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, হরিয়ানা, গোয়া এবং আসামে ভ্যাটের হার কম হওয়ায় পেট্রোল ও ডিজেলের দাম তুলনামূলকভাবে কম।