প্রতিরক্ষা খাতে 'আত্মনির্ভর ভারত'  প্রচারকে সফল করতে এক বিরাট সিদ্ধান্ত নিল ভারত সরকার। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, সরকার স্বয়ংক্রিয় পথের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত ফরেন্ট ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) বা বিদেশি বিনিয়োগে অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন এই প্রতিরক্ষা উত্পাদন বৃদ্ধি শুধু ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজন মেটাবে তাই নয়, ভবিষ্যতে ভারতের মিত্রদেশগুলিতে নির্ভরযোগ্য অস্ত্র সরবরাহকারীও হয়ে উঠতে পারে।

এতে করে উপমহাদেশিয় অঞ্চলে প্রধান সুরক্ষা প্রদানকারী হিসাবে ভারতের অবস্থান-ও সুসংহত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে 'আত্মনির্ভর ভারত ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি আউটরিচ ওয়েবিনার'-এ বক্তব্য রাখতে গিয়েই এই বড় ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

তিনি আরও বলেছেন, স্বাধীনতার সময়ই ভারতের প্রতিরক্ষা উত্পাদন শিল্পে বড় নাম হয়ে ওঠার সক্ষমতা ছিল। কারণ আমাদে দেশে তার একশো বছরেরও আগে থেকে প্রতিরক্ষা উত্পাদনের পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত ছিল। কিন্তু, 'দুর্ভাগ্যক্রমে' সেইসময় এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তাই বহু বছর ধরে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিকারক দেশ ছিল। কিন্তু, এখন সময় এসেছে তা বদলাবার।

বস্তুত চলতি মাসের শুরুতেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করে এমন প্রায় শতাধিক সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন। সেইসময় তিনিও বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর আত্মনির্ভর ভারতের আহ্বান মেনেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বিদেশি গোলাবারুদের বদলে স্থানীয় প্রতিরক্ষা সংস্থার তৈরি গোলাবারুদ ব্যবহার করবে।

এদিন একই ওয়েবনিয়ারে, সিডিএস বা ভারতের প্রতিরক্ষা প্রধান জেনারেল বিপিন রাওয়াত জানিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনী 'আত্মনির্ভর ভারত' প্রতারকে সমর্থন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশীয় উন্নত প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জামা নিয়ে যুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার চেয়ে বেশি সন্তুষ্টি আর কিছুতে পাবে না সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। উচ্চমানের দেশিয় অস্ত্র তৈরি করার ক্ষমতা, এবং ইচ্ছা দুটোই ভারতের আছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।