নতুন বছরের প্রথম দিনেই রেকর্ড তৈরি করল ভারত। কারণ এখনও পর্যন্ত এদিন ভারতে ৬০ হাজার শিশু জন্মগ্রহণ করেছে। গত বছরের তুলনায় সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার কম। কিন্তু তারপরেও ভারতেই এই দিন বিশ্বের সর্বাধিক বেশি নবজাতক দিনের আলো দেখল। করোনা-ক্লান্ত বিশ্বে নবজাতকদের আরও যত্নের প্রয়োজন। তাদের আরও বেশি মমতার সঙ্গে বড় করে তুলতে হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

ইউনাইটেড নেশন চিল্ড্রেন ফান্ড বা ইউনিসেফের হিসেব অনুযায়ী ভারতের তুলনায় অর্ধেক শিশু জন্মগ্রহণ করেছে চিনে। সংস্থাটির দেওয়া হিসেবে চিনে এদিন জন্মগ্রহণ করেছে ৩৫ হাজার ৬১৫টি শিশু। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে এই দিনে জন্মগ্রহণকারী শিশুর সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭১ হাজার ৫০৪। যারমধ্যে ৫২ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে মাত্র ১০টি দেশে। এবছর গোটা বিশ্বে ১৪০ মিলিয়ন শিশু জন্মগ্রহণ করতে পারে। যাদের গড় আয়ু হবে ৮৪। ইউনিসেফের তরফ থেকে জানান হয়েছে  আজ জন্মনেওয়া শিশুরা এক বছর আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের তুলনায় অনেতটাই আলাদা পৃথিবীতে পা রাখল। ইউনিসেফের কার্যনির্বাহী পরিচালক হেনরিটা ফোর বলেছেন মহামারির কারণ আজ গোটা বিশ্বই বিধ্বস্ত। আর্থিক মন্দা ও ক্রমবর্ধমান দারিদ্রের সাক্ষী থাকবে নবজাতকরা। চলতি বছরএই এই প্রতিষ্ঠানটি ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপন করবে। 

আরও একটি চমকপ্রদ হিসেব দিয়েছে সংস্থাটি। বলা হয়েছে এই বছর জন্মগ্রহণকারী শিশুদের সংখ্যা করোনাভাইরাসে মৃতদের তুলনায় ৭৮গুণ বেশি। ভারতে ২০২১ সালে শিশুদের গড় আয়ু হবে প্রায় ৯০ বছর। যা বিশ্বের গড় আয়ুর তুলনায় প্রায় তিন বছর কম। বর্তমানে ভারতে শিশু মৃত্যুর হার অনেকটাই কমছে বলে দাবি করা হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, নবজাতকদের পরিচর্যার জন্য একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। দেশের ৩২০টি জেলায় এসএনসিইউ বসানো হয়েছে, শিশু বিক্রি রুখতে। কারণ এই দেশে প্রতিবছরই অভাবের তাড়নায় কয়েক হাজার শিশুকে বিক্রি করে দেওয়া হয়। মহামারির কারণে বিশ্বের সঙ্গে ভারতেও পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়ে। আগামী দিনেও সেই পরিবর্তন বজায় থাকবে। তাই তাদের কাজ আরও কঠিন হবে বলেও সংস্থার পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে। আর আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত করার জন্য সংস্থাটিও বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে।