গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে 'মনোলিথ' দেখা যাচ্ছে। এই মনোলিথ অর্থাৎ একক পাথরের স্তম্ভগুলি রহস্যজনকভাবে উদ্ভূত হচ্ছে, আবার রহস্যজনকভাবে গায়েব-ও হয়ে যাচ্ছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে অবশ্য রহস্যের সমাধানও হয়েছে। তবে, নিঃসন্দেহে 'মনোলিথ' সংক্রান্ত ঘটনাগুলি গোটা বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই অবস্থায় ভারতবাসী দিন গুনছিলেন, কবে ভারতের কোথাও আবির্ভাব হবে কোনও একক প্রস্তরের স্তম্ভের। অবশেষে একেবারে বছরের শেষে এসে তাদের সেই মনোবাঞ্ঝা পূরণ হল। গুজরাতের আহমেদাবাদের এক পার্কে দেখা মিলল মনোলিথ-এর।

ভারতের প্রথম একক প্রস্তরের স্তম্ভটিকে দেখা গিয়েছে আহমেদাবাদের থালতেজ এলাকার সিম্ফনি ফরেস্ট পার্কে। বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে আবির্ভূত হওয়া মনোলিথগুলির মতোই এটিও তিনদিকওয়ালা এবং তলদেশটি চকচকে ধাতব চাদরের মতো। কাঠামোটি ১০ ফুট দীর্ঘ। মাটির উপরই স্থাপিত হলেও, মাটিতে কোনও খননের কোনও চিহ্নমাত্র নেই বলেই দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে অন্যান্য মনোলিথগুলির থেকে তফাতটা হল, ভারতের এই একক প্রস্তরের কাঠামোটির পৃষ্ঠতলে কিছু সংখ্যা এবং চিহ্ন খোদাই করা রয়েছে। সেই সংখ্যা ও চিহ্নগুলির অর্থ এখনও উদ্ধার করা যায়নি।
 

পার্কের উদ্যানবিদ আশারাম-ই মনোলিথটি প্রথম আবিষ্কার করেন। তাঁর দাবি, কোথা থেকে কীভাবে পার্কের মধ্যে কাঠামোটি এল, তা তিনি জানেন না। সংবাদমাধ্যম 'আজতক'-কে তিনি জানিয়েছেন, পার্কের ভিতরে কে বা কারা কাঠামোটি স্থাপন করেছে, তা তিনি দেখেননি। সন্ধ্যায় য়খন তিনি বাড়ি গিয়েছিলেন, তখন কাঠামোটি ছিল না। কিন্তু, পরের দিন সকালে কাজে ফিরে দেখেন ওই মনোলিথটি। এরপর তিনি পার্কের ম্যানেজারকে বিষয়টি জানান। বাগানের ব্যবস্থাপককে জানান।

গত কয়েক মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে নেদারল্যান্ডস, ব্রিটেন - বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০টি শহরে এই একক প্রস্তরের তিনদিকওয়ালা চকচকে কাঠামোগুলি দেখা গিয়েছে। প্রথম দেখা গিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উটা মরুভূমিতে। কীভাবে কোথা থেকে সেগুলি উদ্ভূত হল, তাই নিয়ে বিভিন্ন জনে বিভিন্ন তত্ত্ব দিয়েছেন। তবে ভারতের মনোলিথ-টির উৎস বাকিগুলির মতো অত রহস্যময় নয় বলেই দাবি করেছে সংবাদমাধ্যম 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিম্ফনি ফরেস্ট পার্ক-এর দেখভালের দায়িত্বে থাকা প্রাইভেট ফার্ম-ই ওই মনোলিথটি স্থাপন করেছে। এটি একটি ইস্পাতের তৈরি শিল্পকার্য। তবে, যে শিল্পী কাঠামোটি তৈরি করেছেন তিনি নাকি তাঁর নাম প্রকাশ করতে চান না। সম্ভবত কাঠামোর গায়ে খোদাই করা সংখ্যা ও চিহ্নগুলির মধ্যেই তাঁর হদিশ লুকিয়ে রয়েছে।