হাসিমারা প্রস্তুত রাফাল যুদ্ধবিমানকে বরণ করে নিতে। ১৯ বা ২০ মে ফ্রান্সের মেরিনিয়াক-বোর্দো বিমানবন্দর থেকে চারটি রাফাল এসে নামবে ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) আম্বালা বিান ঘাঁটিতে। আর তারপর আসবে হাসিমারার ঘাঁটিতে। আর এই রাফালের হাত ধরেই হাসিমারায় ফের মাথা তুলে দাঁড়াবে বায়ুসেনার ১০১ নম্বর স্কোয়াড্রন, যা পরিচিত  'ফ্যালকনস অফ চাম্ব' নামে। এর জন্য ইতিমধ্যেই বায়ুসেনার একটি অ্যাডভান্সড ইউনিট-কে হাসিমারার ঘাঁটিতে আনা হয়েছে।

ভারতীয় বায়ুসেনায় রাফাল যুদ্ধবিমানের প্রথম স্কোয়াড্রন, 'গোল্ডেন অ্যারোজ' বাহিনীর ঘাঁটি আম্বালা। এরপর রাফালের দ্বিতীয় যে স্কোয়াড্রনটি তৈরি হবে, তাদের হোম বেস হচ্ছে হাসিমারা। এর জন্য এই ঘাঁটির রানওয়েটি মেরামত করে, এর দৈর্ঘ্য বাড়ানো হয়েছে। গোলাবারুদ মজুত রাখার ঘর, ব্লাস্ট পেন মেইটেনেন্স বে, কর্মীদের থাকার জায়গা - সবেরই প্রস্তুতি চলছে। ঘাঁটিতে থাকা এক এয়ার মার্শাল জানিয়েছেন, রাফাল আসার আগে হাসিমারা বিমানঘাঁটিটির সম্পূর্ণ সংস্কার করা হয়েছে। এই মাসের শেষের দিকেই এটি ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যাবে। যুদ্ধের সময় যেখানে প্রয়োজন হবে, হাসিমারা থেকেই উড়ে যাবে রাফাল বিমানের দ্বিতীয় স্কোয়াড্রন।

সংসদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময় অর্থাৎ, ২০২২ সালের এপ্রিল মাসের আগেই ৩৬ টি রাফাল যুদ্ধবিমানের সরবরাহ সম্পন্ন হবে। এই ৫টি রাফাল এসে গেলে, চলতি মে মাসের শেষে ভারতে আইএএফ-এর হাতে ২৪টি রাফাল ফাইটার জেট থাকবে। আরও সাতটি রাফাল, পাইলটদের ট্রেনিং-এর জন্য রাখা আছে ফ্রান্সে। কাজেই দুটি স্কোয়াড্রন সম্পূর্ণ হতে আর মাত্র পাঁচটি রাফাল চাই। সেগুলি ২০২১ সালের শেষদিকে সরবরাহ করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের মোট ১২৬টি মাঝারি পাল্লার বহুমুখী যুদ্ধবিমান প্রয়োজন। এই লক্ষ্যেই এই রাফাল বিমানগুলি কেনা হয়েছে। তবে সেই প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য ভারতের আরও বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান কিনতে হবে। এই ক্ষেত্রে ফ্রান্সই ভারতের বড় বন্ধু হয়ে উঠতে পপারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তারা ভারতের সঙ্গে বহুকাঙ্খিত 'হট ইঞ্জিন প্রযুক্তি' ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এখানেই শেষ নয়, 'আত্মনির্ভর ভারত'-এর সুরে সুর মিলিয়ে তারা যৌথ উদ্যোগে ভারতেই যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন তৈরির প্রস্তাবও দিয়েছে।