পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoJK) বিক্ষোভ দমনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় ভারত।  ভারত এই ঘটনাকে সামনে রেখে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (PoJK)-এ চলমান অশান্তি ও বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করল ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, সেখানে বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক পুলিশি নির্যাতন চালানো হয়েছে, যার ফলে বহু মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার খবর মিলেছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জ বলেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ভুয়ো খবর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে নিজেদের ব্যর্থতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি আড়াল করার চেষ্টা করছে।

জয়সওয়ালের কথায়, “পাকিস্তান থেকে নিয়মিত ভুয়ো খবর ও ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। এটি তাদের নিজেদের ব্যর্থতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা।” তিনি আরও দাবি করেন, পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে পুলিশি দমন-পীড়নের ফলে একাধিক বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে পাকিস্তানকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বানও জানায় ভারত।

সম্প্রতি পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে Joint Awami Action Committee (JAAC)-এর নেতৃত্বে একাধিক আন্দোলন শুরু হয়েছে। সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, অর্থনৈতিক সংকট এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। গত সপ্তাহে স্থানীয় প্রশাসন JAAC-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। সরকারের অভিযোগ, সংগঠনটি অঞ্চলে ঘৃণা, অরাজকতা এবং সন্ত্রাসবাদকে উৎসাহিত করছে। নিষেধাজ্ঞার পর ৯ জুন বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয় সংগঠনটি, যার জেরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে Human Rights Commission of Pakistan। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মানবাধিকার কমিশন অবিলম্বে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে এবং সমস্ত মৃত্যু ও আহতের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছে। পাশাপাশি জনপ্রিয় গণআন্দোলন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক পরিসরকে সংকুচিত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষ ও পুলিশি অভিযানে ২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তবে পাকিস্তানের সরকারি সূত্রে মৃতের সংখ্যা কম বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রাণহানির কথা স্বীকার করেছে প্রশাসন।

এদিকে মঙ্গলবার পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের প্রশাসন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত চারজন পলাতক ব্যক্তির তথ্য দিলে ১ কোটি পাকিস্তানি রুপি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছে। সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ভারত এই ঘটনাকে সামনে রেখে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারি দাবি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক অসন্তোষ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জনরোষই বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। পরিস্থিতি কীভাবে এগোয়, সেদিকে এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।