পাক সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধি করতে চাইছে ভারত। সীমান্তে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পাকিস্তান যে নিয়মিত হামলা চালায়, তার মোকাবিলা রুশ-জাত টি-৯০ ট্যাঙ্ক দিয়েই করতে চাইছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। টি-৯০ ট্যাঙ্ক রাশিয়ায় তৈরি হলেও, তাকে আরও উন্নত মানের করে তুলেছে ভারত, যার নাম দেওয়া হয়েছে টি-৯০ 'ভীষ্ম'। ২০২২ থেকে ২০২৬-এর মধ্যে এরকমই ৪৬৪টি ট্যাঙ্ক পাক সীমান্তে মজুত করতে চাইছে বাহিনী। এর মাধ্যমে পাকিস্তানকে যোগ্য জবাব দেওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, পাকিস্তানও রাশি থেকে ৩৬০ টি টি-৯০ ট্যাঙ্ক কেনার জন্য আলোচনা চালাচ্ছে বলেই খবর।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, সেনাবাহিনী তাদের অস্ত্রশস্ত্র ঢেলে সাজাচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে এই অতিরিক্ত ৪৬৪টি ট্যাঙ্ক তৈরি করা হবে। সব মিলিয়ে এই খাতে ১৩,৪৪৮ কোটি টাকা খরচ হবে বলে ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাশিয়া থেকে এই বিষয়ে লাইসেন্স আদায়ের জন্য সবুজ সঙ্কেত দিয়ে দিয়েছে সংসদের নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি। শীঘ্রই আভাদি হেভি ভেহিকল ফ্যাক্টরিতে ট্যাঙ্ক তৈরির বরাত দেওয়া হবে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে ইতিমধ্যেই ১০৭০ টি টি-৯০ ট্যাঙ্ক রয়েছে। এছাড়া, ১২৪টি 'অর্জুন' ও ২৪০০ টি টি-৭২ ট্যাঙ্ক রয়েছে। ২০০১ সাল থেকে ৮,৫২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে রাশিয়া থেকে ৬৫৭টি টি-৯০ ট্যাঙ্ক ক্রয় করা হয়েছিল। রুশ লাইসেন্স নিয়ে রুশ যন্ত্রাংশের সহায়তায় আরও ১০০০টি এইরকম ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়েছে হেভি ভেহিকল ফ্যাক্টরিতেই।

নতুন যে ৪৬৪টি ট্যাঙ্ক তৈরি করার কথা ভাবা হচ্ছে সেগুলি রাতের অন্ধকারেও যুদ্ধ চালাতে সক্ষম হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এক সূত্র জানিয়েছে এর মধ্যে প্রথম ৬৪ টি ট্যাঙ্ক আগামী ৩০-৪০ মাসের মধ্যেই তুলে দেওয়া হবে সেনাবাহিনীর হাতে।

তবে পাকিস্তানও তাদের অস্ত্রাগার ঢেলে সাজাচ্ছে বলেই সূত্রের খবর। তারা ৫০টি ইউক্রেনিয় টি-৮০ইউডি ট্যাঙ্ক ও চিনা ট্যাঙ্ক কিনতে চলেছে। সেই সঙ্গে ৩৬০টি মতো রুশ টি-৯০ ট্যাঙ্কও তারা কিনতে চায়। এছাড়া চিনা সহায়তায় নিজেদের দেশেও বেশ কিছু চ্যাঙ্ক তৈরির পরিকল্পা রয়েছে তাদের।