আপনি কাউন্টডাউন শুরু করে দিতে পারেন। কারণ  অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক দিনের। নতুন বছরের শুরুতেই করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিন হাতে পাবে ভারত। তেমনই জানিয়েছেন এআইআইএমস-এর ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া। পাশাপাশি ব্রিটেনে অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রোজেনেকার বিকাশ করা করোনা-টিকা কোভিশিল্ডকে জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ায় বিষয়টিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই অবিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন ভারত কয়েক দিনের মধ্যেই কোভিড-১৯-এর টিকা হাতে পেয়ে যাবে। 


রণদীপ গুলেরিয়া বলেছেন এটি খুব ভালো কথা যে, অ্যাস্ট্রোজেনেকার তার তৈরি প্রতিষেধকের জন্য ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। তাদের কাছে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও রয়েছে। তাদের বিকাশ করা প্রতিষেধক তৈরি হচ্ছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়াতে। সেরামে তৈরি হওয়া করোনা প্রতিষেধক শুধু ভারতেই নয় বিশ্বের অনেকগুলি দেশেই সরবরাহ করা হবে। যা ভারতের কাছেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন এখনও পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী করোনা-টিকাটি নিরাপদ  বলেও মনে করা হচ্ছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ডেটা যেমন তাঁদের হাতে রয়েছে, সেই সঙ্গে ব্রিটেন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকায় এই টিকা অনুমোদন পেয়েছে। আর ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা নিয়ে সেরামের হাতেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন ভারতের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ। তাই কয়েক দিনের মধ্যেই ভারতে ভ্যাক্সিনের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি। চিকিৎসক গুলেরিয়া কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি করোনা সংক্রান্ত টাস্ক ফোর্সের সদস্য। তিনি জানিয়েছেন ভারত টিকাকরণের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 

অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রোজেনেকার তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাক্সিন সংরক্ষণ করার জন্য দুই থেকে সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। তাই এটি সহজেই সংরক্ষণ ও পরিবহণ করা যাবে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা। অক্সফোর্ডের করোনা টিকার দাম ফাইজারের তুলনায় অনেকটাই কম। খোলা বাজারে দাম পড়বে ৫০০ টাকা প্রতি ডোজ। গরম আবহাওয়ার দেশগুলিতে এই টিকা খুবই কার্যকর বলেও দাবি করেছেন চিকিৎসকরা। ভ্যাক্সিনের কথা বলতে গিয়ে গুলেরিয়া জানিয়েছেন, ভারত সরকার দেশের নাগরিকদের একটা বড় অংশের জন্য টিকাকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে চলেছে।